চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ছাত্রীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
এই সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. হালিম মাহমুদ ভূঁইয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শারীরিক-মানসিক সুস্থতা ও সচেতন জীবনবোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা। তিনি বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিবর্তন, স্বাস্থ্যবিধি মানার গুরুত্ব এবং অসচেতনতার কারণে হওয়া সামাজিক ক্ষতি নিয়ে আলোকপাত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিকিৎসাবিদ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানান, সচেতনতার অভাবে বাল্যবিবাহ কেবল একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে না, বরং তার জীবনকেও চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। একই সাথে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক অবসাদ দূর করে আত্মহত্যার মতো আত্মঘাতী পথ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন বক্তারা।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. সামসুন নাহার এবং অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লতিকা ইয়াসমিন। বক্তারা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে তাদের দ্বিধা ও প্রশ্নের সঠিক সমাধান তুলে ধরেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী, স্বাস্থ্য সচেতন ও সুস্থ মানসিকতার নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক