বিয়ের স্বপ্নে প্রেমিকের কাছে এসেও বাধ সাধলো বয়স ও ধর্ম
- আপলোড তারিখঃ
২৬-১১-২০১৭
ইং
প্রেমের টানে সুদুর ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গার নীলমনিগঞ্জে নাবালিকা সুমনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘পিরিতে মজিলে মন, কি বা মুচি কি বা ডোম’-এই গ্রাম্য প্রবাদ বাক্যটি আবারও প্রমাণ করে দিলো নীলফামারীর মুসলিম পরিবারের সুমনা (১৬) ও চুয়াডাঙ্গা নীলমনিগঞ্জ গ্রামের হিন্দু পরিবারের নয়ন কুমার সাহা (১৭)। দীর্ঘ আড়াই বছর মোবাইলফোনে সম্পর্ক। অবশেষে দু’জনের সম্মতিতে বিয়ের জন্য সুমনা গতকাল দুপুরের পর সুদুর ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা নীলমনিগঞ্জে নয়ন কুমারের বাড়ি উপস্থিত। দু’জনের ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম, তার উপর বয়স কম। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের তড়িৎ পদক্ষেপে নাবালিকা সুমনাকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সুমনাকে থানা হেফাজতে রেখে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায় থানা পুলিশ।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নীলমনিগঞ্জ গ্রামের সাইকেল মিস্ত্রি অর্জুন কুমার সাহা’র ছেলে নয়ন কুমার সাহা’র সাথে আড়াইবছর আগে মোবাইলফোনে পরিচয় হয় সুমনার। সুমনা নীলফামারী জেলার ভালুগঞ্জ গ্রামের সাবুল মিয়ার মেয়ে। পারিবারিক অভাব অনটনের কারনে গত ৮মাস আগে ঢাকার উত্তরার জনৈক ব্যক্তির বাসা বাড়িতে কাজ করতে যায়। এখান থেকে তাদের সম্পর্ক আরো গাড়ো হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা উভয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করবে। সে কারনে ঢাকা থেকে এসে গতকাল দুপুরের পর নীলমনিগঞ্জে নয়ন কুমারের বাড়ি চলে আসে। সুমনা ও নয়ন কুমার ভিন্ন ধর্মের তার উপর তাদের বয়স কম। এ অবস্থায় চেয়ারম্যান ও কয়েকজন ইউপি সদস্য মেয়েটাকে সদর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
মোমিনপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য ও নারী সদস্য আলীয়া খাতুন সমেয়র সমীকরণকে জানান, নয়ন ও সুমনা আড়াই বছর ধরে মোবাইলফোনে সম্পর্কের কারনে তার বিয়ে করার জন্য একত্র হয়। তাদের বয়স কম ও ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় মেয়েটাকে সদর থানা হেফাজতে তুলে দেওয়া হলো। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি তোজাম্মেল হক জানান, সুমনা নীলফামারীর ভালুগঞ্জ গ্রামের সাবুল মিয়ার মেয়ে। মোবাইলফোনে সম্পর্কের কারনে নীলমনিগঞ্জ নয়নের বাসায় উপস্থিত হলে এলাকার কয়েকজন মেম্বার সুমনাকে সদর থানা হেফাজতে তুলে দেয়। এ অবস্থায় আমারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
কমেন্ট বক্স