শনিবার, ২২ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দামুড়হুদার পৃথক স্থানে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ২২-০৮-২০২৬ ইং
দামুড়হুদার পৃথক স্থানে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ

দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামের নুড়িতলা পাড়ায় বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পীরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিলন হোসেন বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিলন হোসেন পীরপুর গ্রামের একটি জমিতে রাজমিস্ত্রি নিয়ে নির্মাণকাজ করছিলেন। এসময় পূর্ববিরোধের জের ধরে একই গ্রামের নাসির, সানোয়ার হোসেন, টিক্কা, মুক্তার হোসেন, লিটন হোসেন, জাকির মল্লিক ও সালাতুল্লা ইউসুফ মল্লিকসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


হামলায় মিলন হোসেনের ডান হাতের কনুই ভেঙে যায়। এছাড়া তার মাথা, ঘাড় ও পিঠে আঘাত লাগে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার চাচা আব্দুল হাই (৬৫)-এর বাম কানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর কানে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তার হাতের তালুতেও আঘাত লাগে।


অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় মিলন হোসেনের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শিউলী খাতুন (৩০)-এর ওপরও হামলা করা হয়। তাকে চুলের মুঠি ধরে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং পেটে লাথি মেরে গর্ভপাতের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। এসময় ঘটনাস্থলে থাকা রাজমিস্ত্রি আব্দুল মতিনকেও মারধর করা হয়। তার পকেটে থাকা এক লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা জমিতে থাকা একটি টিউবওয়েল, বৈদ্যুতিকমিটার, ১২টি সিমেন্টের পিলার, গোয়ালঘর এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সাতটি স্টিলের বক্স ভাঙচুর করেন। পরে এসব সামগ্রী পাশের একটি গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মিলন হোসেন।


পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার পর তাদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


এদিকে, দামুড়হুদা উপজেলার সুবলপুর গ্রামের মাঝপাড়ায় জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় দুইজন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বসতবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা একটার দিকে সুবলপুর গ্রামের নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুবলপুর গ্রামের মাঝপাড়ার মৃত ভোলাই হালসোনার ছেলে রেজাউল ইসলাম একই গ্রামের পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন- সুবলপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে জাইদুল ইসলাম, হকার ছেলে নবাব আলী, মিল্টন, কলিম উদ্দীনের ছেলে মাসুদা ও লিটন হোসেন।


অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে রেজাউল ইসলামের ছোট ভাই হারুন অর রশীদ নিজেদের জমিতে পাটকাঠির গাদা দিচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো দা, লোহার রড, শাবল, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। বাধা দিতে গেলে তারা হারুন অর রশীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, জাইদুল ইসলাম ধারালো দা দিয়ে হারুন অর রশীদের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকান। একপর্যায়ে তাঁর মুখের বাম চোয়ালে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে লোহার শাবল ও কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়।


এ সময় রেজাউল ইসলামের স্ত্রী নুরুন নাহার স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও লোহার শাবল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথা, ঘাড়, পিঠ ও পায়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ধারালো দা দিয়ে কোপ দিলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তাঁর ডান পায়ের পাতায় লাগে। এতে তিনি কাটা ও রক্তাক্ত জখম হন।


অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, হামলার পর অভিযুক্তরা বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে টিনের চালা মাটিতে ফেলে দেন। এছাড়া জমিতে থাকা এক ট্রাক মোটা বালি, ৫ হাজার ইট ও ৩০০ আঁটি পাটকাঠি নিয়ে যান। এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরে আরও প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।


ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এ কারণে ভুক্তভোগীরা আতঙ্কে বাড়িতে যেতে পারছেন না বলেও দাবি করা হয়েছে। খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

বিভিন্ন বিলে জাল-ফাঁদ, বিপন্ন পাখির নিরাপদ আশ্রয়