সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সাদা কাগজেই বিয়ে : লাগেনা কাজী-ইমাম

  • আপলোড তারিখঃ ২৪-১১-২০১৭ ইং
সাদা কাগজেই বিয়ে : লাগেনা কাজী-ইমাম
কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না বাল্য বিবাহ : নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন রোকনুজ্জামান রোকন: বাল্য বিবাহ সমাজ ও জাতির অভিশাপ স্বরুপ। যা সমাজে চলছে রেলগতিতে। কিছুতেই যেন থামানো যাচ্ছে না এই গাড়ি। রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যাবস্থা তৈরি করা হচ্ছে আইনি কৌশল তার পরও সবার চোখ কে ফাকি দিয়ে চলেই যাচ্ছে বাল্য বিবাহ, নষ্ট হচ্ছে হাজারো কিশোরীর উজ্জল ভবিষ্যৎ ও জীবন। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার রাষ্ট্রীয় চাপের কারনে প্রকাশ্যে বাল্য বিবাহ কিছুটা বন্ধ হলেও চোখের আড়ালে রাতের আধারে কিছু অসাধু মহল বাল্য বিবাহ দিয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে হাজারো নাবালিকা কিশোরীর জীবন। যেন সচেতন মহলের কিছুই করার নেই। পরিসংখান অনুযায়ী বর্তমানে মেয়েদের বিবাহের বয়স সীমা আঠারো বছর হলেও বারো কিংবা তের বছরেই তাদের ইচ্ছার বাইরে দেওয়া হচ্ছে তাদের বিবাহ। কিন্তু সরকারী রাষ্ট্রীয় বিধী নিষেধ আমান্য করে কি ভাবে সংগঠিত হচ্ছে এই বিবাহ? এলাকার প্রায় প্রতিটি জায়গায় আমরা নিতে থাকি খোজ, কিন্তু কিছুতেই যেনো খোজ করে উঠতে পারছিলাম না, যেন অশুভ কোন শক্তি অদৃশ্য হয়ে এসে বিয়ে দিয়ে চলে যায়। যেখানে বিবাহ রেজিষ্ট্রি করবার জন্য লাগেনা কাজী, লাগেনা কবুল বলে দোয়া করবার জন্য কোন ইমাম। তাহলে কিভাবে সংগঠিত হয় এই বিয়ে? বিভিন্ন কাজীর সাথে আলাপ কালে তারা বলে আমরাও এই বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন, আমাদের কাছ থেকে এ ধরনের কোন বিবাহ রেজেষ্ট্রি হয়না। আমরা তাদের রেজেষ্ট্রি বই দেখেছি তাতেও নেই বাল্য বিবাহের কোন পাতা। তার পর এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ইমামের সাথে দেখা করে তাদের সাথে আলাপ করেছি কিন্তু তারাও নিরাশ করে, বলে আমাদের আর এখন কেউ এই বাল্যবিবাহের জন্য ডাকে না। কিছুতেই যেন হিসাব মেলাতে পারছিলাম না। বিয়েতে যাদের একান্ত দরকার তাদের ছাড়া কিভাবে বিবাহ হচ্ছে? আবার নববধু শশুর বাড়ি যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি দিলেন আমাদের চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা বলেন, আসলে এখনকার বিয়েতে আর ইমাম কাজী লাগেনা শুধু একটা সাদা কাগজ আর লেখার জন্য একটা কলম হলেই যথেষ্ট! তার মানে জানতে চাইলে তারা বলেন এখন রাতের আধারে সাদা কাগজে সই কারিয়েই বেধে দিচ্ছেন বিবাহ বন্ধনে। কেউ গেলে বলে তারা নাকি বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে! কিন্তু কিছু দিনের মাথাই দেখা যাই সেই মেয়ে চলে যাচ্ছে স্বামীর ঘরে। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলো আসলেকি এই বিবাহ কোন দিনিই রেজেষ্ট্রি হয়না জবাবে তারা বলেন বাজার থেকে কেনা কাবিনের পাতায় আবার কিছু অসাধু কাজী আছে যারা টাকার বিনিময়ে এই বিবাহ রেজেষ্ট্রি করে থাকে। বিশেষ সুত্রে যানা যায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়নপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামে হরহমেশায় হয়ে যাচ্ছে এ ধরনের বিবাহ এবং প্রভাবশালী ব্যাক্তিবর্গ নাকি জড়িত। কারা এই প্রভাবশালী প্রশ্নের জবাব তারা আমাদের বলেনি। তবে সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেন এই চোরাগুপ্তা বিয়ে কি কোন দিনি ঠেকানো সম্ভব নয়? এভাবেই কি নষ্ট হতেই থাকবে একের পর এক কিশোরীর জীবন? তাই তারা মনে করেন উর্দ্ধতন মহল যদি বিষয়টিকে তাদের সু নজরে এনে তাদের প্রতি যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করেন তাহলে হয়তো এই সাদা কাগজের বিয়ে বন্ধ করা সম্ভব।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড