সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক বরাবর মানবিক আবেদন হাসপাতাল সড়কে উচ্ছেদ করা দোকানীর

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-১১-২০১৭ ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক বরাবর মানবিক আবেদন হাসপাতাল সড়কে উচ্ছেদ করা দোকানীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সদর গেটের পশ্চিম দিকের ৫০ বছরেরও পুরানো টং দোকান উচ্ছেদ করে দেওয়ায় পুনর্বাসনের আকুতি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন দিয়েছেন দোকানী মো. আব্দুল হান্নান। গতকাল সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ’র হাতে উচ্ছেদকৃত দোকান পুনর্বাসনের জন্য এ আবেদন করেন তিনি। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক বরাবর সদর হাসপাতাল গেটের পুরাতন টং দোকানী আব্দুল হান্নানের আকুতি- আমি আপনার জেলাধীন চুয়াডাঙ্গা আধুনিক সদর হাসপাতাল সড়কের হাসপাতাল সদর গেটের পশ্চিম দিকের (সর্ব পশ্চিমে) কাঠের টং দোকানদার। আমি বিগত ১৯৬৮ (ইংরেজি) সালে হাসপাতাল সদর গেটের পশ্চিম পাশে আমার বাড়িতে যাওয়ার নিজস্ব রাস্তা ও আংশিক পৌরসভার জমির উপর একটি ছোট কাঠের টং দোকান স্থাপন করি। আমার দোকানটি তখন এলাকার একমাত্র দোকান ছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হাসপাতালে পাকবাহিনী ক্যাম্প করে এবং আমার স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে থাকার কারণে ভারতে চলে যাই। যার কারণে পাকবাহিনী আমাদের দোকান ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে হাসপাতাল পুনরায় চালু হয় এবং আমি তদানীন্তন ডাক্তার সাহেবদের মৌখিক নির্দেশে কাঠের টং দোকানটি একই স্থানে আবার চালু করি। আমার দোকানটি রোগীদের একমাত্র ফলমুল, সাবান-সোডা, শিশি বোতলের মত একান্ত দরকারী জিনিসগুলো সরবরাহ করে থাকে। এ সময় আমার দোকান না থাকলে রোগী সাধারণের হাসপাতাল হতে ১ (এক) মাইল দূরে চুায়াডাঙ্গা বড় বাজার হতে এ সকল জিনিসপত্র কিনে আনতে হত। তখন হতেই আমি উক্ত স্থানে দোকানটি চালিয়ে আসছি। আমার দোকানের বয়স প্রায় ৫০ (পঞ্চাশ) বছর। এ যাবৎ আমি কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি। আমার দোকানের কারণে হাসপাতালের যানবাহনের চলাচলের ও পরিবেশগত ভারসাম্যের কোন ক্ষতি হয়নি। আমার দোকান রাস্তার গেট হইতে দূরে। আমি ১৯৭৩ সালে দোকানের জন্য পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ও ফুড লাইসেন্স করি এবং যথাসময়ে লাইসেন্স নবায়ন করে থাকি। আমার দোকানের লাইসেন্স নং-৮৭, ওয়ার্ড নং-০৯, নবায়ন ৩০’শে জুন ২০১৭ পর্যন্ত। তাছাড়াও আমি বাংলাদেশে দোকান মালিক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার (১০৮৮ নং) সদস্য। আমি এ যাবৎ পর্যন্ত এই দোকান হতে আমার পরিবারের ১০ (দশ) সদস্যের ভরণপোষণ করে থাকি। এই দোকান ঘর উচ্ছেদ করে দেওয়ায় আমার পক্ষে ভাই-বোন, প্রতিবন্ধী মেয়ে ও শিশু সন্তানদের ভরণপোষণ করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া এই দুর্মুল্যের বাজারে না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরে যাবো। জেলা প্রশাসকের কাছে আমার বিনীত প্রার্থনা, আমার দোকান চালানোর মতো একটা জায়গার ব্যবস্থা করে এই দুর্মূল্যের বাজারে আমার পরিবারের সদস্যদের ভরণ পোষণ করতে পারি তার সুব্যবসথা করে দিতে আপনার সদয় মর্জি হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড