চুয়াডাঙ্গা থেকে ট্রেনে করে বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া গৃহবধূ হাফসা জাহান মুক্তা ও তার দুই সন্তানকে ৯ দিন পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের ওয়ায়েছিয়া পাক দরবার শরীফ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার তাদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে সকালে খুলনা থেকে ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে চুয়াডাঙ্গা থেকে বাবার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন হাফসা জাহান মুক্তা। এসময় তার সঙ্গে ছিল দুই সন্তান ফাতেমা ও মোস্তাকিম। এরপর থেকেই তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এ ঘটনায় ১৬ মে ভিকটিমের স্বামী হারেজ আলী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্তকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে শনিবার বেলা দেড়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সদর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের ওয়ায়েছিয়া পাক দরবার শরীফে অভিযান চালায়। সেখান থেকে হাফসা জাহান মুক্তা ও তার দুই সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাফসা জাহান মুক্তা জানান, তিনি সুফিবাদে বিশ্বাসী। তবে বিষয়টি তার স্বামী পছন্দ করতেন না। এ কারণে তিনি সন্তানদের নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে গৃহবধূর স্বামী হারেজ আলী দাবি করেন, উদ্ধার হওয়ার পর তার স্ত্রীর বক্তব্য তার কাছে অসংগত ও বানোয়াট মনে হয়েছে। তিনি বলেন, তার স্ত্রী প্রথমে দাবি করেন ট্রেনে যাওয়ার সময় তার ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই হয়েছে। পরে ভয়ে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এছাড়া বাবার বাড়িতে না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বিশ্বাস করবেন না বলে ধারণা করেছিলেন। এ কারণে তিনি শ্রীকোলের ওই মাজারে অবস্থান নেন।
হারেজ আলী আরও জানান, নিখোঁজের ঘটনায় তিনি ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্ট দেখে পরিচয় গোপন রেখে এক ব্যক্তি তাকে জানান, তার স্ত্রী ওই মাজারে অবস্থান করছেন। পরে তিনি পুলিশের সহায়তায় সেখানে গিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের উদ্ধার করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক