রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঢাকা থেকে চাঁদপুর, পথে পথে জনতার ঢল

জনগণের দাবি হলে কুমিল্লা বিভাগ হবে
  • আপলোড তারিখঃ ১৭-০৫-২০২৬ ইং
ঢাকা থেকে চাঁদপুর, পথে পথে জনতার ঢল

জনগণের দাবি হলে কুমিল্লা বিভাগ হবে বলে জানিয়েছেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কুমিল্লা নামে বিভাগ হবে। কুমিল্লা নামে বিভাগ হওয়াটা যদি এই অঞ্চলের জনগণের দাবি হয়ে থাকে, ইনশাআল্লাহ্ সেটির বাস্তবায়ন হবে। বিএনপি সরকার জনগণের সব দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণ করবে। একই সঙ্গে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের বিষয়ে শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। গতকাল দুপুরে চাঁদপুর সফরে যাওয়ার পথে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কের পাশে বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার খেলার মাঠে বিএনপি আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন। দাউদকান্দি থেকে পথে পথে হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। দুপুর সোয়া ১টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান তিনি। প্রায় ১৫ মিনিটের বক্তব্যে তিনি দেশের উন্নয়ন ও সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। ওদিকে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুরের বিশ্ব খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকাল পৌনে ৯টায় রাজধানীল গুলশানের বাসা থেকে সড়কপথে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো চাঁদপুর যাওয়ার পথে কুমিল্লার বরুড়ায় লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও রাস্তার দু’পাশে ভিড় করে সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এখানে ২০০১ সালের নির্বাচনে বরুড়াবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম যে, বরুড়া আর আমার জেলা বগুড়া দু’টো উচ্চারণ অনেক কাছাকাছি। আমি যেরকম আমার এলাকার উন্নয়ন দেখবো, ইনশাআল্লাহ্ আমি বরুড়ার বিষয়েও সহযোগিতা করবো। আমরা সেই সময় কথা রেখেছিলাম, এখানে সেই সময় প্রচুর রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রিজ, কালভার্ট তৈরি হয়েছিল এলাকার মানুষের যোগাযোগের জন্য, সুবিধার জন্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম- সারাদেশে কৃষকদের যাদের কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে, সুদসহ সেই ঋণ আমরা মওকুফ করবো। নির্বাচিত হওয়ার পরে সরকার গঠন করার পরে প্রথম ১০ দিনের মধ্যে আমরা সেই কথা রেখেছি এবং সেটি আমরা মওকুফ করে দিয়েছি। এর ফলে বাংলাদেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক এর সুবিধাটি পেয়েছে। ১২ লাখ কৃষকের সুদ এবং ঋণ দু’টোই মওকুফ হয়ে গেছে। বিএনপি যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে সেই ওয়াদা পূরণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার মধ্য দিয়ে নিজেদের রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তাই জনগণই বিএনপি সরকারের মূল শক্তি। তাই বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এরইমধ্যে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানি দেয়া শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে বাকি সব প্রতিশ্রুতিও ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবে। তবে এ জন্য সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সভাপতিত্বে পথ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সম্পাদক কামরুল হুদা, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ। ওদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর আগমন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার শেষ প্রান্ত ভাটেরচর নতুন সড়কে মেঘনা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঢল নামে। কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেনসহ দল এবং এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনায় জড়ো হন বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের চান্দিনা অংশ অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ি বহর। সকাল ৮টা থেকে চান্দিনার ইলিয়টগঞ্জ, কুটুম্বপুর, পালকি সিনেমা হল সংলগ্ন ও চান্দিনা বাস স্টেশনসহ উপজেলা গেট এলাকায় মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের দুই পাশে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অবস্থান নেন। চান্দিনায় অবস্থান নেয়া নেতা-কর্মীদের হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা গেছে। ব্যানার ও ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান নেতা-কর্মীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গাড়ির দরজা খুলে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওনের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে মুরাদনগর উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ স্টেশন এলাকায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে নিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান নেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় পৌঁছে মহাসড়কের পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ধর্মমন্ত্রীকে অবস্থান করতে দেখে প্রধানমন্ত্রী বাস থামিয়ে তার সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। এ সময় ধর্মমন্ত্রী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে 


শাহরাস্তির খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন:
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। গতকাল শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন স্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। ফলক উন্মোচনের পরে খালের পাড়ে নেমে নিজের হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোমিনুল হক, জেলা সদস্য সচিব সলিম উল্যা সেলিম, শাহরাস্তি উপজেলা সভাপতি আয়াত আলী ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপম উপস্থিত ছিলেন। খোর্দ্দ খাল পুনঃখননের কাজ উদ্বোধন শেষে পাশে তৈরি মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। খালের দুই পাশে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক তুমুল স্লোগান ও করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে এই খোর্দ্দ খাল খনন করেছিলেন। ৪৮ বছর পর সেই খাল পুনঃখনন করলেন তার ছেলে তারেক রহমান। সমাবেশে খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খাল পুনঃখননের এই অনুষ্ঠান। আসুন আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি, কী প্রতিজ্ঞা প্রতিজ্ঞা? সেটা হচ্ছে- দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা। বিএনপি জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামীতে সকল প্রতিশ্রুতি আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করবো।


চাঁদপুরে বিশ্ব খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন:
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুরের বিশ্ব খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল সাড়ে ৪টায় সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটের সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তিনি খালে নেমে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে খালের মাটি পুনঃখনন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী খাল পাড়ে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। বিশ্ব খালটি ডাকাতিয়া নদী হতে ঘোষের হাট হয়ে মতলব দক্ষিণ সীমানা পর্যন্ত দীর্ঘ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জলাধার সংরক্ষণ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।


সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ:
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে আমরা বিএনপি জনগণের জন্য, দেশের জন্য ইনশাআল্লাহ কাজ করে যাবো। এর থেকে এক বিন্দুও এদিক-ওদিক হবে না। বিকাল পৌনে ৫টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা যখন খালকাটা শুরু করেছি, আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দেয়া শুরু করেছি, যখন ইমাম-মোয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানী ভাতা দেয়া শুরু করেছি, বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছি- তখন কিছু সংখ্যক মানুষ এনিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে। এর বিরোধিতা শুরু করেছে। তিনি বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই দেশের মানুষ সচেতন ছিল বলেই তারা বিএনপি’র পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই আজকে পরিষ্কারভাবে হাজারো মানুষের সামনে আমি বলে দিতে চাই, আমরা মানুষের পক্ষ থেকে যেই সমর্থন পেয়েছি, আমরা এক এক করে সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করবো, সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করবো। সরকারপ্রধান বলেন, কেউ যদি এই কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চায়, আমাদের কিছু করা লাগবে না, বাংলাদেশের মানুষই তাদের সেই পরিকল্পনা অবশ্যই রুখে দেবে। তাই আসুন যে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করলে এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, আমরা সে সকল কাজে নেমে পড়ি। তিনি আরও বলেন, আজকে এই ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননে আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, আমরা সকলে অ্যালার্ট থাকবো, আমরা সকলে সচেতন থাকবো। ওই বিভ্রান্তকারীদের বিভ্রান্তির ফাঁদে আমরা পা দেবো না। জনগণের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে যাতে খাল খনন কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে, আমাদের সজাগ থাকতে হবে যাতে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার যে কর্মসূচি, সেই কর্মসূচি যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে কৃষক কার্ড কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছে দেয়ার যে পরিকল্পনা, সেই পরিকল্পনা যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমরা দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করেছি, সেগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে- সে ব্যাপারে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে। দেশ গঠনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সামনে উদ্দেশ্য লক্ষ্য একটাই। এই দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে, এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে এবং সেই কাজ আমরা শুরু করেছি। বিএনপি সবসময় একটি কথা বলে থাকে জনগণই হচ্ছে বিএনপি’র সকল রাজনৈতিক শক্তির উৎস এবং সেই জন্যই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এসব কর্মসূচি শুরু করেছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কর্মসূচির কাজ শুরু করেছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কৃষক কার্ডের কাজ শুরু করেছি। জনগণ যতক্ষণ সমর্থ দেবে আমরা জনগণের জন্য কাজ করে যাবো।


একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে:
দেশে একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বিকালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই অনুষ্ঠান হয়। তিনি বলেন, একটি মহল রাজনীতির নামে তারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমি ছোটবেলায় থেকে দেখে এসেছি, রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, আমি ছোটবেলায় থেকে দেখে এসেছি রাজনীতি মানে নতুন মিল-কারখানা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, আমি ছোটবেলায় থেকে দেখে এসেছি, রাজনীতি মানে মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা, রাজনীতি মানে আমি দেখে এসেছি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কাজেই এটাই হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। রাজনীতির নামে যদি কেউ বিভ্রান্ত সৃষ্টি করতে চায়, রাজনীতির নামে যদি কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়- আপনারা কি বসে থাকবেন? আমরা কেউ বসে থাকবো না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজনীতি দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের রাজনীতি, দেশ গঠনের রাজনীতি। আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই রাজনীতিকে কেউ যাতে বাধাগ্রস্ত না করতে পারে, সজাগ থাকতে হবে। সেজন্যই আমরা একটি কথা বলে থাকি করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। আজকের এই জনসভার এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। আসুন সামনের দিন দেশ গড়ার রাজনীতি, সামনের দিন মানুষের ভাগ্য বদলের রাজনীতি। চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত ও পরে দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী, অর্থাৎ হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমা ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ল্যাপটপের বাটন টিপের সঙ্গে সঙ্গে চাঁদপুরসহ আরও ২০টি জেলার সুবিধাভোগীর (১৫ হাজার নারী) কাছে নগদ অর্থ (আড়াই হাজার টাকা) চলে যায়। ফ্যামিলি কার্ডের এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সমর্থনের কথা জানান দেন। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল আহমেদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ বেগম হীরা, চাঁদপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক সলিম উল্যা সেলিম, সমাজ কল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া ফ্যামেলি কার্ড পাওয়া রুমা আখতার ও মনোয়ারা বেগম প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) সহ জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

৮ মাসের সংসার শেষে লাশ হয়ে ফিরলো রুমি