বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের নামে ‘চাঁদাবাজি’

ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ
  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৪-২০২৬ ইং
দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের নামে ‘চাঁদাবাজি’

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দাবির প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদের কাছে গতকাল বুধবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ৩৬ জন সাধারণ দলিল লেখক। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ অবৈধ সমিতির নামে সিন্ডিকেট তৈরি করে অন্যায় ও অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করেছে। এতে জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম হয়রানি ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্টের পর সমিতি না থাকলেও নির্বাচনের পর হঠাৎ কয়েকজন দলিল লেখক স্বঘোষিতভাবে কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক সেজে অতীতের মতো সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও হয়রানির মাধ্যমে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিতে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ড নামে চাঁদাবাজিতে লিপ্তি হয়েছে।


দলিল লেখক আবু সাইদ মুক্তি জানান, সাধারণ দলিল লেখকদের মতামত না নিয়েই একতরফা ভাবে যুবদল নেতা ফারুক হোসেন ও আজিজুল লস্কর কমিটি গঠন করেছে। কমিটি গঠনের পর তারা দলিল লেখক ফান্ডের নামে সাধারণ দলিল লেখকদের হোয়াটসঅ্যাপে একটি তালিকা পাঠিয়ে সরকারি ফি বাদে শতক ও কবলা মূল্য প্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা জানায়।


তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে সরকারি ফি বাদে হেবা, পাওয়ার ও বণ্টন নামা শতক প্রতি ৩ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারি ফি বাদে কথিত দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডকে কবলা মূল্য, সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা মূল্যের জমিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে ৮৫ হাজার টাকা দিতে বলা হয়।


দলিল লেখকরা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে নাসির উদ্দিন নামে এক দলিল লেখক সমিতির নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সাধারণ ডাব বিক্রেতা থেকে নাসির ভিআইপি ও পরে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এখন হঠাৎ যুবদলের দুই নেতা জোরপূর্বক নিজেদেরকে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ঘোষণা করে সমিতির নামে চাঁদাবাজি করার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।


এ ব্যাপারে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের ‘কথিত’ আহ্বায়ক ফারুক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। অন্য কেউ বানিয়ে আমাদের নাম দিয়ে লেখকদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে পারে। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ গতকাল বুধবার দুপুরে বলেন, কয়েকজন সাধারণ দলিল লেখকরা এসে একটি লিখিত দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



কমেন্ট বক্স