শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা সরকারি গার্লস স্কুলে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ডিসি

সন্তানদের স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে
  • আপলোড তারিখঃ ১৭-০৪-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা সরকারি গার্লস স্কুলে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ডিসি

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণে মেতে ওঠে স্কুল প্রাঙ্গন। নাচ-গান আবৃত্তিসহ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে উদ্যাপন করা হয় দিনটি। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করেন অত্র স্কুলের শিক্ষার্থী মাহমুদা ফেরদৌস ও জ্যোতি পোদ্দার।


এসময় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। এসময় তিনি বলেন, ‘তোমাদের মতো আমিও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় অনেক পুরস্কার পেতাম। তোমাদের হাস্যজ্জ্বল মুখ দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। তোমাদের ভবিষ্যৎ মুখ যেন আজকের দিনের মতোই হাস্যজ্জ্বল থাকে এই কামনা করি।’


তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য সবাইকেই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তোমরা অনেকেই না খেয়ে বিদ্যালয়ে আসো, ফলে তোমরা অধিকাংশ সময়েই অসুস্থ থাকো। এক্ষেত্রে তোমাদের প্রথম কাজ হলো, সকালে ঘুুম থেকে উঠে নাস্তা করে স্কুলের ব্যাগটা নিয়ে সবার আগে স্কুলে আসা। তোমাদের শরীর সুস্থ না থাকলে তোমাদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটবে। তোমাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে।’


অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সন্তানদের নিয়ে সচেতন হতে হবে। আপনাদের সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে কি না, সে কার সাথে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, সন্ধ্যার আগে আগে সে বাড়িতে ফেরত আসছে কি না, খোঁজ নিতে হবে। আপনারা অভিভাবকেরা স্কুলের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কোনো প্রকার অনলাইন ক্লাস বা টিউশনির জন্য আপনাদের সন্তানদেরকে ফোর্স করবেন না। এবং সন্তানদের স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।’


জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের চুয়াডাঙ্গাতে দুটি বিষয় বেশি দেখা যাচ্ছে, একটি বাল্যবিবাহ এবং অন্যটি পালিয়ে বিবাহ। তোমাদের এই বিষয়গুলোতে সচেতন হতে হবে। তোমরা আবেগতাড়িত হয়ে অনেক কাজ করে ফেল, যেগুলো ঠিক নয়। তোমাদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে পড়ালেখা। এরপর কো-কারিকুলাম এক্টিভিটিজ বাড়াতে হবে।’


বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাজিদ রহমান ও জুলিয়াস নাজনীনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাতে আমাদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য প্রথম পছন্দই হলো ভি জে স্কুল এবং গার্লস স্কুল। কিন্তু আমরা লেখাপড়ার মান যাচাই করি না। আমি অভিভাবকদেরকে অনুরোধ করব, লেখাপড়ার মান ঠিক আছে কি না, বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সঠিকভাবে শিক্ষাদান করছেন কি না, এটা পর্যবেক্ষণ করবেন। একটি সন্তান লালন-পালন করতে হলে অভিভাবকদের দায়িত্ব শিক্ষকদের থেকে সর্বদাই বেশি। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করলেই যে আমাদের সন্তানেরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যাবে, বিষয়টা এমন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানের পোশাক পরলেই একটি শিক্ষার্থীর মান বেড়ে যাবে, বিষয়টা এমনও না। যদি আমরা অভিভাবকেরা এটা মনে করেই আমাদের সন্তানদেরকে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে চাই, তাহলে আমি বলব, আমাদেরকে সুশিক্ষার স্থানে ফিরে আসতে হবে।’ প্রধান শিক্ষকের নিকট অনুরোধ করে তিনি বলেন, প্রতি মাসে অন্তত একবার করে অভিভাবকদের সাথে শিক্ষকদের মতবিনিময়ের একটি সভা অনুষ্ঠিত করতে হবে। এতে অভিভাবকেরাও সচেতন হবে, সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও।’


আলোচনা সভা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল শামীম ও ভি জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা। আরও উপস্থিত ছিলেন অত্র স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ।



কমেন্ট বক্স
notebook

সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসায় বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান