সারাদেশের মতো মেহেরপুরেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক রোগ হামের প্রকোপ। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত বৃহস্পতিবার যেখানে ৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল, গতকাল শনিবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। আর গত পাঁচ দিনে ১৬ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নিচে আলাদা একটি ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ৯ জন। শুক্রবার ও শনিবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৩ শিশু। এদের মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলার ১ জন ও গাংনী উপজেলার ২ জন রয়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের অভিযোগ, টিকার অভাবে অনেক শিশু এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মৌসুমী জানান, প্রথমে শিশুর জ্বর ভেবেছিলাম। পরে চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করেন। গত ৬ মাস ধরে টিকা নিতে পারিনি। টিকা নিতে গেলে বলা হয়, টিকা নেই।
সদর উপজেলার ঝাউবেরিয়া এলাকার মুনিয়ারা বলেন, আমার মেয়ের বয়স ৯ মাস। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে, কিন্তু এখনো কোনো হামের টিকা দেওয়া হয়নি।
জেনারেল হাসপাতালের নার্স জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে যাতে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, হাম হলে জ্বর, শরীর ব্যথা ও নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে রাখা জরুরি। তিন-চার দিনের মধ্যে শরীরে র্যাশ দেখা দেয় এবং পরে মুখে ঘা হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নিতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো টিকা। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯-১২ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করতে। আক্রান্ত শিশুদের অন্যদের সংস্পর্শে না আনা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক