মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। গত সোমবার সকালে সাহারবাটি দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা আনছার আলী (৬০), তার স্ত্রী সাহানারা খাতুন (৫৫), এবং সাহারবাটি গ্রামের আদালত মোল্লার ছেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা দবির মোল্লা (৩৮), খালেক মোল্লা (৫৫) ও মালেক মোল্লা (৫০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সকালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হন।
বিএনপি নেতা দবির মোল্লা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও আনছার আলীর সহযোগিতায় তার বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং তার গরু- বাছুর জোরপূর্বক বিক্রি করে দেওয়া হয়। এছাড়া তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর আহত করে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সে সময় কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘ ১৫ বছর তাকে গ্রাম ছাড়া থাকতে হয়।
তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে তার গরু জোরপূর্বক বাইরে বিক্রির বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আনছার আলীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার ওপর আগে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি ও তার দুই ভাই আহত হন। পরে তার লোকজন প্রতিবাদ করলে আনছার আলীও আহত হন।
দবির মোল্লা আরও অভিযোগ করেন, সাহারবাটি গ্রামের সাবেক মেম্বার ও বিএনপি নেতা ফরমান আলী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা নিয়ে তাদের পক্ষ অবলম্বন করছেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ফরমান আলী চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এদিকে, সাবেক মেম্বার ও বিএনপি নেতা ফরমান আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, দবির মোল্লা আনছার আলীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং পরে মোবাইল ফোন কেটে দেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদক গাংনী