বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে জালিয়াতির নজিরবিহীন চিত্র

৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভুয়া নিয়োগ ও জাল সনদে চাকরি
  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০৩-২০২৬ ইং
ঝিনাইদহে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে জালিয়াতির নজিরবিহীন চিত্র

ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ আমলে ঝিনাইদহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল সনদ ও জাল নিবন্ধন দিয়ে চাকরি করার এক নজিরবিহীন চিত্র উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিপ্ততরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনে। সারা দেশে ৯৭৩টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ওপর পরিচালিত এই বিশেষ তদন্তে ঝিনাইদহের ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভুয়া নিয়োগ, অন্যের জমি দখল করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি এবং জাল সনদ দিয়ে চাকরি করার তথ্য মিলেছে। এছাড়া আগেই ঝিনাইদহের ১০টি স্কুলে জাল সনদধারী শিক্ষককে ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৩ টাকা ফেরত দিতে বলা হয়।


ডিআইএর তদন্তে উঠে আসা দুর্নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অভিযুক্তদের বিপুল অঙ্কের আর্থিক দণ্ড ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। ফেরত দিতে হবে অর্থ। কেবল অর্থই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া প্রায় ১৭৬ একরের বেশি জমিও পুনরুদ্ধারের তাগিদ দিয়েছে অধিদপ্তর।


ডিআইএ সূত্রে জানা গেছে, জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ডিগ্রি কলেজ, কে, ডি, এইচ, বি, ইউ দাখিল মাদ্রাসা, ইশ্বরবা দাখিল মাদ্রাসা, আলহাজ্ব আমজাদ আলী ও ফাইজুর রহমান মহিলা কলেজ, দামোদর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসা, সুন্দরপুর দাখিল মাদ্রাসা, কোটচাঁদপুরের বিসিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহেশপুরের কালুহাটী দাখিল মাদ্রাসা, গৌরিনাথপুর দাখিল মাদ্রাসা, ঘোড়াশাল হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, বিদ্যাধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বৈচিতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সামন্তা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শৈলকুপার কামান্না বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপাখিয়া সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আমেনা খাতুন কলেজ, জিয়ালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দোহাকুলা দাখিল মাদ্রাসা, নুরনগর সিদ্দিকীয় আলিম মাদ্রাসা, হরিশংকরপুর জগৎচন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হলিধানী আলিম মাদ্রাসায় ভুয়া নিয়োগ, অন্যের জমি দখল এবং জাল সনদে চাকরির তথ্য মিলেছে।


তদন্তে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও পরিচালনা পর্ষদ যোগসাজশ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকি দেওয়ার মতো গুরুতর আর্থিক অনিয়মও ধরা পড়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি ইতোমধ্যে ডি-নথি ও ই-মেইলের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল সনদে চাকরি করা ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) চাকরিচ্যুতি, অর্থ ফেরত, অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট বাতিল, ফৌজদারি মামলা এবং নিয়োগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল।


চিহ্নিত জাল সনদধারী শিক্ষকরা হলেন—হরিনাকুণ্ডু পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) মঈন উদ্দিন, ঝিনাইদহ শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম) তপন কুমার বিশ্বাস, ডেফলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) জাহিদুল ইসলাম, বংকিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মামুন অর রশিদ, কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা ভুষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজ) হাজেরা খাতুন, কোটচাঁদপুর উপজেলার বহরমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম) ড. মাহফুজা খানম, একই স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক শামীমা আক্তার, সদর উপজেলার বাসুদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান, লালন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) রাজিয়া খাতুন এবং মহেশপুর উপজেলার গুড়দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মোস্তাফিজুর রহমান।


এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, ডিআইএর তদন্ত প্রতিবেদনটি তার দপ্তরে এখনো আসেনি, তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, জাল সনদে চাকরি করা ১০ জন শিক্ষক উচ্চ আদালতে মামলা করায় তাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের বিষয়টি বর্তমানে ঝুলে আছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

দর্শনা ডিএস মাদ্রাসায় ১১ বছরে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ