ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে (১৪) গুরুতর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তানভির (২৪) নামে এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ধুলিয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত তানভির চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হরিণাকুণ্ডু থানার এসআই তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ধুলিয়া গ্রামে। সে পড়ালেখার সুবাদে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা গ্রামের একটি মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষে থেকে পড়াশোনা করতো। বেশ কিছুদিন ধরে ওই শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষ ও দোতলার একটি কক্ষে নিয়ে শিশুটির ওপর অনৈতিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয়।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি শিশুটি নিজ বাড়িতে ফিরে স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনার বীভৎস বর্ণনা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। গতকাল শুক্রবার অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকায় এলে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) অসিত কুমার রায় জানান, ‘সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছি। তবে যেহেতু অপরাধটি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানা এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, তাই আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভুক্তভোগী পরিবারকে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরমর্শ দেওয়া হয়েছে।’
ঝিনাইদহ অফিস