বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদও নিহত, বিশ্ব জুড়ে বিক্ষোভ
  • আপলোড তারিখঃ ০২-০৩-২০২৬ ইং
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

প্রায় ৩৭ বছর ক্ষমতার থাকার পর ইরানের বিপ্লব তথা প্রতিরোধের রাজনীতির রূপকার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় গত শনিবার তিনি তার নিজের অফিসেই প্রাণ হারান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গতকাল রোববার তার নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। তার নিহত হওয়ার খবরে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তার হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সরকার এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। কেবল খামেনি নন, তার মেয়ে, জামাতা ও নাতনিও নৃশংস হামলায় নিহত হয়েছেন। এমনকি ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদও। গতকাল ইসরাইলের একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করে।


খামেনি নিহত : নিশ্চিত করেছে ইরান


শনিবার রাতেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছিল ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র। তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তার জানা মতে খামেনি বেঁচে আছেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। এতে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। একজন উপস্থাপক কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানান। সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, খামেনি শনিবার সকালে তার কার্যালয়ে কাজ করার সময়েই নিহত হয়েছেন।


স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি পর্যালোচনা করে এর আগেই বিবিসি ভেরিফাই লিডারশিপ হাউজ কম্পাউন্ডের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। এটিই তেহরানে খামেনির কার্যালয় ছিল। ইসলামিক রেভল্যুউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সঙ্গে যোগসূত্র আছে এমন সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির মৃত্যু প্রমাণ করে যে তিনি আত্মগোপনে গেছেন বলে যেসব খবর দেওয়া হচ্ছিল সেগুলো ছিল ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’। কেবল খামেনি নন, তার মেয়ে, জামাই ও নাতিও মারা গেছেন। খামেনির একজন পূত্রবধুও প্রাণ হারিয়েছেন। খামেনির নিহতের খবর প্রকাশ হওয়ার পর গতকাল ইরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ নেমে আসে। তারা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী স্লোগান দেন। ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর শুনে সূর্য ওঠার আগেই তেহরানে লোকজন রেভোলিউশন স্কয়ারের দিকে যেতে শুরু করে। এটাও সত্যি যে খামেনির সমর্থকদের একটি বড় অংশকেই প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়নি। খামেনির মৃত্যুর পর গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদে জুরিস্ট বা আইনজ্ঞ পদে আলিরেজা আরাফি নির্বাচিত হয়েছেন। এক্সপিডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিলের মুখপাত্র মোহসেন দেহনাভি এই ঘোষণা দিয়েছেন। খামেনির হত্যার পর প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আইনবিদকে সদস্য করে একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়।


আহমেদিনেজাদও নিহত:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার ইসরাইলের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রটি বলেছেন, ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অংশ হিসেবে আহমেদিনেজাদের বাড়ি টার্গেট করা হয়। আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। ২০০৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি আবারও ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচনটি ছিল বিতর্কিত। সে বছরের নির্বাচনের পর ইরান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।


পালটাপালটি হুঁশিয়ারি:
খামেনির হত্যাকারীদের জাহান্নামের রাস্তা দেখিয়েই ছাড়া হবে। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পরই আমেরিকা এবং ইসরাইলকে এই হুঁশিয়ারি দেয় ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। ইরান হুঁশিয়ারি দেয়, ওদের (আমেরিকার) জন্য জাহান্নামের দরজা খোলাই রেখেছি। ইরান বাহিনীর আরো দাবি, শুধু মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো নয়, আমেরিকার অস্ত্রবহনকারী একটি জাহাজেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। জাবেল আলিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতি জারি করে আইআরজিসি দাবি করেছে, কুয়েতে আবদুল্লাহ মুবারকে মার্কিন নৌঘাঁটিতে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলায় বহু মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরান। যদিও মার্কিন বাহিনী অস্বীকার করেছে। ইরানের হুঁশিয়ারিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পালটা হুঙ্কার ছুড়ে দিয়ে বলেন, ইরান হামলা বন্ধ না করলে এমন হামলার রাস্তায় যাব যা ওরা কল্পনাও করতে পারবে না। নিজের এক্স হ্যান্ডলে ট্রাম্প লেখেন, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ওরা হামলা আরো জোরালো করবে আমাদের বিরুদ্ধে। ওরা এটা না করলেই বরং ভালো। কারণ ওরা যদি এই রাস্তায় হাঁটে, তা হলে ওদের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ শক্তি ব্যবহার করব, যা ওরা আগে কখনো দেখেনি।


খামেনির হত্যাকাণ্ড নিষ্ঠুর:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি খামেনির মৃত্যুকে মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সকল নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তাদের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বলছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আক্রমণ অবৈধ আগ্রাসন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। চীনও খামেনিকে হত্যার কড়া নিন্দা জানিয়েছে।


বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ:
খামেনিকে হত্যার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। ইরানের বাইরে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে পাকিস্তানে। করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে ইরানপন্থি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট কমপ্লেক্সে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। শত শত ইরাকি বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলার চেষ্টা করে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, তবে তারা এখনো গ্রিন জোনে প্রবেশের চেষ্টা করে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠির পতাকা’ ছিল এবং তারা নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর ছুড়ে মারছিল। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছিল।



কমেন্ট বক্স
notebook

দর্শনা ডিএস মাদ্রাসায় ১১ বছরে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ