দর্শনা দারুস সুন্নাত সিদ্দীকিয়া (ডিএস) সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় টানা ১১ বছরের আয়-ব্যয়ের অভ্যন্তরীণ অডিটে ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান আরিফের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বর্তমানে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুজ্জামান আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অডিট রিপোর্ট, পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন এবং গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
মাদ্রাসা
সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি স্বনামধন্য অডিট ফার্মের প্রতিনিধি, অভিজ্ঞ
হিসাব বিশেষজ্ঞ এবং গভর্নিং বডির সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি দীর্ঘ
সময় ধরে মাদ্রাসার আর্থিক কার্যক্রমের অডিট পরিচালনা করেন। অডিট চলাকালে
দেখা যায়, দীর্ঘ বছর ধরে ক্যাশবুক, লেজার, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ
গুরুত্বপূর্ণ হিসাব সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়নি।
অডিট রিপোর্টে
আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে মাদ্রাসার মালিকানাধীন
মার্কেটের দোকানঘর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ আদায়কৃত ৮৬ লাখ ৭২
হাজার ৬৫০ টাকার মধ্যে ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকার কোনো বৈধ বিল-ভাউচার বা
ব্যাংকে জমার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অডিট কমিটির মতে, উক্ত অর্থ অভিযুক্ত
শিক্ষকের নিকট রয়ে গেছে বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়াও অডিটে শিক্ষক ও
কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে পে-রোল স্বাক্ষর, রেভিনিউ
স্ট্যাম্পের অনুপস্থিতি এবং হিসাবের ঘাটতির একাধিক বিষয় ধরা পড়ে। একই সঙ্গে
ভর্তি ফি ও রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থের কোনো নির্ভরযোগ্য ও
স্বচ্ছ হিসাবও পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পর্যালোচনা
কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
পাওয়ার পরও অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ করেননি, হাজিরা সংক্রান্ত
শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং চলমান অডিট কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি।
এসব অভিযোগের আলোকে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধান-২০২৩ (সংশোধিত)
এর ধারা ১৫ অনুযায়ী গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার)
থেকে মো. আরিফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি
বিধি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত
সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বর্তমান সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুজ্জামান বলেন,
‘সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত চিঠি
এখনো হাতে পাইনি।’ মাদ্রাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শফিউদ্দিন
জানান, অডিট আপত্তির ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং সাময়িক বরখাস্তের
আদেশ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও দপ্তরগুলোতে প্রেরণ করা হয়েছে। ফৌজদারি মামলার
বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহল বলেন,
দর্শনা দারুস সুন্নাত সিদ্দীকিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসা দর্শনার
ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু এ ধরনের বিষয় আসলেই আমরা
প্রত্যাশা করি না। তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু ও
সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে এনে শিক্ষাব্যবস্থা সুন্দর করা হোক।
নিজস্ব প্রতিবেদক