সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরপুর মসজিদে শততম ইছালে সওয়াব অনুষ্ঠিত

হাজারো মানুষের ঢল, মানত ও মিলাদে মুখর এলাকা
  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০২-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরপুর মসজিদে শততম ইছালে সওয়াব অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরপুর মসজিদে এবার শততম বার্ষিক (১০০তম) ইছালে সওয়াব ও হালকায়ে জিকর অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছরে বাংলা মাসের ১২ ফাল্গুন বার্ষিক ইছালে সওয়াব ও হালকায়ে জিকরের আয়োজন করা হলেও এবার মাহে রমজানের কারণে গতকাল রোববার ২ ফাল্গুন অনুষ্ঠিত হয়েছে এ অনুষ্ঠান। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, আগামী বছর থেকে যথারীতি ১২ ফাল্গুনই অনুষ্ঠিত হবে এই ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরপুর মসজিদে বার্ষিক ইছালে সওয়াব। 
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই রান্নার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামবাসী। হাজার হাজার মানুষের জন্য রান্না করা হয় খিচুড়ি। বিকেলের ভেতর ভিড় জমতে শুরু করে। অনেকে আসেন মনে বিশ্বাস নিয়ে, অনেকে আসেন এই মসজিদটি দেখতে। চুয়াডাঙ্গা ও জেলার বাইরে থেকেও ভিড় জমান অনেকে। মনে বিশ্বাস রেখে অনেকে মানতও করেন, মানত পূরণ হলে কেউ খাসি, মুরগি, গরু কিংবা টাকাও দান করেন। অনেকে মসজিদের ধুলো শরীরে লাগান, পানিও পান করেন এই বিশ্বাস থেকে যে ‘যে কোনো রোগ-বালাই কিংবা বিপদ থেকে মুক্তি মিলবে।’


স্থানীয় বাসিন্দা আরিসা খাতুন বলেন, ‘আমি মানত করেছিলাম, যদি আমার ছেলের বউয়ের বাচ্চা হয় তবে মসজিদে এইদিনে একটা ছাগল দিবো, তাই ছাগলটা এনেছি মসজিদে দান করতে।’ কাসেব রহমান জানান, ‘প্রতিবছর আমি এখানে আসি। বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াই। খিচুড়ি খাই অনেক মজা করি। এখানে অনেক ভিড় হয়, পা ফেলারও জায়গা থাকে না।’ শামীমা শারমিন রিফা বলেন, ‘আমি আম্মুর সাথে এখানে এসেছি, ওয়াজ শুনে চলে যাবো। প্রতিবছরই আমরা এখানে আসি। এই মসজিদ সম্পর্কে ছোটবেলায় অনেক গল্প শুনেছি, তখন থেকেই পরিবারের সাথে এখানে আসা আমার।’


মসজিদের বাইরে রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন দোকান বসতে দেখা যায়। এবং সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়ও সেখানে দৃশ্যমান। বিভিন্ন খাবারের দোকানসহ মেলাও বসেছে। সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনের তৎপরতা ছিল প্রশংসনীয়। ইছালে সওয়াব বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনির সভাপতিতে মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আল কুরআন গবেষণা পরিষদের সভাপতি হযরত মাওলানা শাহাদত হোসেন বারী। এছাড়াও স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের গজল ও কুরআন তিলাওয়াতে সৃষ্টি হয় এক অসাধারণ পরিবেশ।


স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, খাতা-কলমে এবার ১০০ বছর হলেও ৩০০ বছরের অধিক সময় ধরে এই বার্ষিক ইছালে সওয়াব ও হালকায়ে জিকিরের আয়োজন করা হয়। কালক্রমে এর নাম পরিবর্তন হয়েছে। ঠাকুরপুরের নাম পীরগঞ্জ করার পিছনে ওই বিশাল আকৃতির গম্বুজ মসজিদটির ভূমিকা রয়েছে। ইসলাম ধর্ম প্রচারে যুগে যুগে এলাকায় আলো ছড়িয়েছেন যারা, তাদের একজন ছিলেন আফু শাহ্। ১৬৯৮ সালের দিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাথাভাঙ্গা, নবগঙ্গা বেয়ে তিনি ঠাকুরপুরে আস্তানা গড়ে তোলেন। এখানেই রয়েছে বড় গম্বুজের মসজিদ। আফু শাহ ছিলেন সাধক পুরুষ ও গুণীজন। কথিত রয়েছে তারই বিশেষ গুণে মসজিদটি এক রাতেই নির্মিত হয়। পরবর্তীতে এ মসজিদের মূল কাঠামো ঠিক রেখে সংস্কার করা হয়। মসজিদের প্রধান ফটকটি যেমন টাইলস দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, ঠিক তেমনই মসজিদের অভ্যন্তর অংশেও লাগানো হয়েছে টাইলস, তৈরি করা হয়েছে ২য় তলা পর্যন্ত। পাশাপাশি গত বছর করা হয়েছে মহিলাদের জন্য নামাজের স্থান। একদিকে গ্রামের নাম নামকরণ করে মসজিদের চৌহদ্দির ভেতরেই একটা মাদ্রাসা করা হয়েছে।



কমেন্ট বক্স