ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে কুয়েত গিয়ে মৃত্যু হয়েছে চুয়াডাঙ্গার এক রেমিট্যান্স যোদ্ধার। ঘটনাটি নিয়ে দালালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবার। নিহত জুয়েল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঋণের চাপ ও আর্থিক সংকট কাটাতে স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে প্রায় দেড় বছর আগে তিনি কুয়েত যান। অভিযোগ রয়েছে, পাশের তেঘরী গ্রামের শহিদুলের ছেলে সাদ্দামের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে কুয়েত গেলেও জুয়েলের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে সেখানে গিয়ে তিনি বিপাকে পড়েন। পরে তাকে অন্য মালিকের কাছে অবৈধভাবে হস্তান্তর করা হয়। ওই সময় তিনি নানা নির্যাতনের শিকার হন বলেও পরিবারের দাবি।
পরিবার আরও জানায়, এক পর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় জুয়েল অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থানে কাজ করতেন। এভাবেই চলছিল তার জীবন। তবে গত ৬ তারিখ থেকে হঠাৎ করে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফোনে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কুয়েতপ্রবাসী বিভিন্ন পরিচিতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তারা জুয়েলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কীভাবে ও কী কারণে জুয়েলের মৃত্যু হয়েছে- তা এখনও রহস্যজনক বলে জানিয়েছে পরিবার। নিহত জুয়েলকে ভিডিও কলে একবার দেখার সুযোগও পাননি স্বজনরা।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন জুয়েলের বাবা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যাঁর মাধ্যমে ছেলেকে কুয়েত পাঠানো হয়েছিল, সেই দালাল সাদ্দামের অবহেলা ও প্রতারণার কারণেই এই পরিণতি হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে জুয়েলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় এলাকাবাসী ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।