মাত্র ১২০ টাকার ফরম পূরণ করে পুলিশের চাকরি পেলেন ঝিনাইদহের ২৫ জন বেকার যুবক-যুবতী। ঘুষ, তদবির কিংবা কোনো প্রকার অনিয়ম ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় অনেকেই আনন্দে কেঁদে ফেলেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আশার আলো। গতকাল রোববার বিকেলে ঝিনাইদহ পুলিশ লাইন্সে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এবারে কনস্টেবল পদে আবেদন করেন ১ হাজার ৮৮০ জন প্রার্থী। জুলাইয়ের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ লিখিত, শারীরিক ও মৌখিক পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২৭৯ জন। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেন ৩৪ জন। পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্তভাবে ২৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে একজন নারী। পাশাপাশি অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে আরও ৫ জনকে।
কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের দামুদার গ্রামের মোসলেমের মেয়ে ফারজানা আক্তার জান্নাতি বলেন, ‘ঘুষ ছাড়া চাকরি পাওয়া যাবে, তা কখনো ভাবিনি। নিজের নাম ঘোষণার পর আনন্দে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।’ হরিণাকুণ্ডুর তপন কর্মকারের ছেলে তন্ময় কর্মকার বলেন, ‘আজ আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন। কোনো ঘুষ কিংবা তদবির ছাড়াই চাকরি পেয়েছি। এ জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই জেলা পুলিশকে।’
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘শারীরিক সক্ষমতা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্যদিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের তদবির, ঘুষ বা রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই যোগ্যদের সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাকরি পেয়ে তোমরা মানুষের আস্থা অজন করবে। সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতা নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।’
এদিকে, চাকরি পাওয়ার খবর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও প্রার্থীদের মাঝে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। অনেকদিনের বেকারত্বের অবসান ঘটিয়ে এই সুযোগ তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলো।
ঝিনাইদহ অফিস