শনিবার, ২৯ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু

পরিবারের অভিযোগ চিকিৎসায় অবহেলা
  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০৮-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় নাছিমা খাতুন (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নাছিমা খাতুন দর্শনা থানার পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের পুরাতন মসজিদপাড়ার জাকির হোসেনের স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী।


পরিবারের অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার পর থেকে চিকিৎসায় চরম অবহেলা করা হয়েছে। বারবার ডাকাডাকি সত্ত্বেও ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ইন্টার্ন নার্সরা কর্ণপাত করেনি। স্যালাইন দেওয়ার পর আর কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি তাকে।


নাছিমার বড় মেয়ে শীমা খাতুন বলেন, বেলা ১টার দিকে মা মাছ মারা ট্যাবলেট সেবন করেন। আমরা টের পেয়ে বেলা ২টার দিকে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু ভর্তি করার পর কেবল স্যালাইন দেওয়া হয়। মা অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পরলে আমরা বারবার ডাকলেও নার্সরা সাড়া দেয়নি। অবস্থার অবনতি হলে আমরা চিৎকার করি, তখন নার্স আসেন। কিন্তু তার আগেই মা মারা যান।


সাংবাদিকরা মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সদের বক্তব্য নিতে গেলে তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তারা বলেছেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কোনো কথা বলব না।
এলাকার ইজিবাইক চালক রনি হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমি দ্রুত ইজিবাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। জরুরি বিভাগের ডাক্তার ভর্তি করে ওয়ার্ডে পাঠান। কিন্তু বেড না থাকায় শুধু স্যালাইন দেওয়া হয়। পরে নার্সরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী নিতে বলেন। তবে তার আগেই বিকেল ৪টার দিকে নাছিমার মৃত্যু হয়।


অভিযোগ প্রসঙ্গে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জেরিন জেসি বলেন, রোগীর অবস্থা শঙ্কটাপন্ন ছিল। স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। কিন্তু কী পরিমাণ বা কোন ওষুধ তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি। জরুরি বিভাগে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। আমার কোনো অবহেলা করার সুযোগ ছিল না। ওয়ার্ডে নার্সিসার সাড়া দেননি বলছে রোগীর পরিবার। নার্সদের অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই৷


সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রকিব সাদী জানান, রোগীকে হাসপাতালে আনা হয় ঘুমের ওষুধ সেবনের ২-৩ ঘণ্টা পর। তখন অবস্থাও ছিল মারাত্মক। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এমন রোগীকে ওয়াশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। স্বজনদের দেওয়া তথ্যও ছিল অসম্পূর্ণ। পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। ওয়ার্ডে নার্সরা দায়িত্বে গাফিলতি করলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, এমন একটি ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি। চিকিৎসা অবহেলা করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত নই। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের প্রশিক্ষণ