মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন

স্বচ্ছ ভোট গ্রহণে সহায়ক হবে
  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৮-২০২৫ ইং
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন

শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলের সাড়ে ১৫ বছরে দেশ থেকে নির্বাচন নির্বাসিত ছিল। এ সময়ে নির্বাচনের নামে তামাশা করা হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পরপর তিনটি নির্বাচন প্রথমটি ২০১৪ সালে বিনাভোটের, দ্বিতীয়টি ৃরাতের ভোট ও সর্বশেষ ২০২৪ সালে তৃতীয়টি 'আমি-ডামি'র নির্বাচনের আয়োজন করে। ফলে ভোটব্যবস্থার প্রতি দেশের মানুষের আস্থা পুরোপুরি উঠে যায়। এর প্রতিফলন ঘটে শেখ হাসিনার দুঃশাসনের সময় সব ধরনের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নগণ্য। এসব নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে শিখণ্ডী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মূলত ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে শেখ হাসিনা দেশের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেন। নির্বাচন কমিশনকে তার বশংবদ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো- নির্বাচন কমিশন স্ব-উদ্যোগে নিজের ক্ষমতা কমিয়ে আনে। এমন বাজে নজির দেশে আর কখনো স্থাপিত হয়নি। প্রকৃত-বাস্তবতায় শেখ হাসিনার পতনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত সরকারদলীয় নেতাকর্মী এবং তার সমর্থক গোষ্ঠী ছাড়া বাকি সব মানুষের নাগরিক ও মানবিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়। পরিণতিতে দেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটে। হাসিনা-উত্তর দেশে গঠিত হয় অন্তর্র্বতী সরকার। এ সরকারের কাঁধে দায়িত্ব বর্তেছে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপাপড়া দেশকে উদ্ধারের। সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে যেসব ইস্যু রয়েছে, তার অন্যতম অবাধ-সুষ্ঠু এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দেশকে উপহার দেয়া। যাতে দেশ ফের টেকসই গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে পারে। এ লক্ষ্যে সরকার ও নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ত্রয়োদশ নির্বাচন স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে ইসি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বেশ কিছু বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। এগুলো হলো-ফল বাতিলের ক্ষমতা বৃদ্ধি, 'না' ভোট চালু, ইভিএম বিলুপ্তি, ভোট সমান হলে পুনর্র্নিবাচন, নির্বাচনী ব্যয়ের অডিট শক্তিশালীকরণ এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যাচার প্রতিরোধ। এসব নতুন আরপিওর প্রধান বৈশিষ্ট্য। গত সোমবার ইসির সভায় নির্বাচন পরিচালনার সুসংহত ও স্বচ্ছতাসূচক নানা বিষয়ে 'গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২'-এর একগুচ্ছ সংশোধনী অনুমোদিত হয়। উল্লেখযোগ্য সংশোধনীগুলোর একটি হলো- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাভোটের নির্বাচন হওয়ার পথ বন্ধ করতে 'না' ভোটের বিধান চালু করা। ইসির সভা শেষে এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, 'যদি কোনো আসনে একজন প্রার্থী থাকে, তাকে বিনাভোটে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে না। তাকেও নির্বাচনে যেতে হবে। তার বিপক্ষ 'না' প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।' আগের নির্বাচনগুলোতে একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভোট বর্জন বা 'না' ভোটের কোনো প্রভাব থাকত না। এবার তা পরিবর্তন করে 'না' ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনায় একজন প্রার্থী থাকলেও তাকে ভোটে অংশ নিতে হবে। আমরা মনে করি, ইসি আরপিওতে যে সংশোধনীগুলো এনেছে তা দ্রুত আইন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে আসবে। সেই সাথে এসব সংশোধনী আগামী নির্বাচনে যথাযথভাবে প্রয়োগ হবে। যাতে একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতি পেতে পারে।



কমেন্ট বক্স
notebook

ভাংবাড়ীয়ায় ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন