শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

হত্যা-হামলা-মামলা বন্ধ হোক

নিশ্চিত হয়নি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
  • আপলোড তারিখঃ ১১-০৮-২০২৫ ইং
হত্যা-হামলা-মামলা বন্ধ হোক

গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং আইনসভা এই তিনটি স্তম্ভের পরেই গণমাধ্যমকে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে যুগে যুগে আমরা তার উল্টোটাই দেখে আসছি। গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে এবং সাংবাদিকরা বরাবরই হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে তাই অন্যতম প্রত্যাশা হয়ে ওঠে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম। দেয়াল লিখনগুলোতেও তা স্পষ্ট। কিন্তু অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ও সেই পুরনো চিত্রই দেখতে পাই। ক্ষেত্রবিশেষে মনে হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরো এক ধাপ পিছিয়েছে। দেশে খুন, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অপহরণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুটপাট—ক্রমেই ঊর্ধ্বগামী। গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিকদের কাজ হলো সেসব ঘটনা তুলে ধরা এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা কারণগুলো উদঘাটন করা। এই কাজ করতে গিয়ে অতীতে হত্যা, নির্যাতন, মামলা, হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা, এখনো হচ্ছেন। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনায় বহু মানুষের সামনে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আগের দিন গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানার কাছে প্রকাশ্যে টেনেহিঁচড়ে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। এই দুটি ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশব্যাপী বিক্ষোভ হয়েছে। সেসব প্রতিবাদে শুধু গণমাধ্যমকর্মী নন, সমাজের সব স্তরের মানুষ অংশ নিয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। গত ৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে তিনজন সাংবাদিক দায়িত্ব পালনকালে হামলায় নিহত হয়েছেন। সাংবাদিক তুহিনকে নিয়ে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়াল চার। টিআইবি বলেছে, অন্তর্র্বতী সরকারের আমলেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে ২৭৪টি হামলার ঘটনায় ১২৬ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। গত মার্চে রাজধানীতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী সাংবাদিক। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা নিয়ে দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেখানে তথ্য প্রকাশ, মত প্রকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হবে বলে নোয়াব আশা করেছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত এক বছরে সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সংবাদপত্র কিংবা গণমাধ্যমে ‘মব’ সৃষ্টি করে মালিকপক্ষকে হুমকি, ভয়ভীতি দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। নোয়াবের পর্যবেক্ষণকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা নোয়াবের সাম্প্রতিক বিবৃতি পর্যালোচনা করেছি, যেখানে তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তি নিয়ে মন্তব্য করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত এক বছরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা গণমাধ্যমের স্বতন্ত্রতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।’ আমরা দৃঢ় ও স্পষ্টভাবে এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি।” প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলেও আমরা একই প্রতিক্রিয়া দেখেছি। আমরা চাই, গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ হোক। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হোক। হামলা, মামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ হোক।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা অনুষ্ঠানে শরীফুজ্জামান