শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জুলাই ঘোষণাপত্র একধাপ অগ্রগতি

সর্বসম্মত জুলাই সনদ চাই
  • আপলোড তারিখঃ ০৭-০৮-২০২৫ ইং
জুলাই ঘোষণাপত্র একধাপ অগ্রগতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিন গত ৫ আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় '৩৬ জুলাই উদযাপন' শীর্ষক অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠকালে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। চলমান রাজনৈতিক টানাপড়েনের এই সময়ে বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই ঘোষণাপত্রের প্রকাশনা একধাপ অগ্রগতি নিঃসন্দেহে। এতে যেসব ঘোষণা এসেছে, যেমন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদকে 'জাতীয় বীর' হিসেবে ঘোষণা, শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে সব ধরনের আইনি সুরক্ষা দেয়া এবং অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষের স্বীকৃতি ইত্যাদি জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন। রাজনৈতিক দলগুলো সমভাবে এটিকে স্বাগত জানিয়েছে। বড় দল বিএনপি স্বাগত জানিয়ে এসব ঘোষণা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। ২৮ দফা ঘোষণাপত্রের কিছু বিষয়ে সবাই একমত হতে পারেনি, সেটি সম্ভবও নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত থাকবেই। লক্ষণীয়, ঘোষণাপত্রে উঠে আসা অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্তর্র্বতী সরকার নিচ্ছে না। দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে আগামী নির্বাচনে যে সরকার আসবে তার ওপর। এ বিষয়ে হতাশা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, ঘোষণাগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের। কিন্তু তাদের পাশ কাটানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। জামায়াত এ কথাও পুনর্ব্যক্ত করে যে, সংস্কার ও গণহত্যার বিচার ছাড়া নির্বাচন হবে জনগণের সাথে প্রতারণা। প্রধান উপদেষ্টা একই দিনে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। সে ভাষণে তিনি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে বলে জানান। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার, বিচার ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান- এই তিনটি অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান কাজ। এখন শেষ ধাপের কাজ চলছে। কিন্তু এটি স্পষ্ট যে, শেষ ধাপের এই কাজ অর্থাৎ নির্বাচন কিন্তু সংস্কার ছাড়া হবে না। গণহত্যার বিচার না করে নির্বাচন হলে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে সে প্রশ্নও আছে। জুলাই বিপ্লবের মূল শক্তি তরুণ সমাজ সে নির্বাচন মেনে নেবে মনে হয় না। এজন্য সবার আগে দরকার সর্বসম্মতভাবে একটি জুলাই সনদ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন একটি খসড়া তৈরি করেছে। সেটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক অগ্রগতিও হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্তভাবে অনুমোদন ও গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত জনমনে অস্বস্তির ছায়া কাটবে বলে মনে হয় না। কারণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জন-আকাঙ্ক্ষার যে ভিত্তি অর্থাৎ আইনের শাসন ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা, দুর্নীতি, শোষণ, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা। এটি কেবল তখনই সম্ভব হবে যদি সংস্কারের সুপারিশমালা সর্বসম্মতভাবে জাতীয় সনদ আকারে গ্রহণ করা যায়। দেশকে নতুন করে গড়া বা সঠিক পথে এগিয়ে নেয়ার যে প্রক্রিয়া চলমান তা ভণ্ডুল করতে পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও পৃষ্ঠপোষকরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে তৎপর। এর নানা আলামত স্পষ্ট। তাই বিপ্লবের সব পক্ষশক্তি সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে ঐকমত্যে পৌঁছবেন এটিই কাম্য।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা অনুষ্ঠানে শরীফুজ্জামান