১৯৫৭ প্রতিষ্ঠিত হয় জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে কেউ এখন অতিরিক্ত সচিব, কেউ বুয়েট শিক্ষক কেউবা সামরিক বাহিনীর বড় কর্মকর্তা। আবার এই বিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন বাংলা ভাষার অন্যতম গবেষক মুন্সী সাত্তার সারের মতো শিক্ষক। সময়ের আবর্তে এক সময় এই বিদ্যালয়ের সাফল্যের কিছুটা ছন্দপতন হয়। অনেক বছর বিদ্যালয়ে ছিল না প্রধান শিক্ষক, ছিল না ম্যানেজিং কমিটি। সে সময় স্কুলের মেধাবী পুরোনো শিক্ষকদের অবসরে দেখা দেয় শিক্ষক ঘাটতি, পার্টটাইম শিক্ষক দিয়ে চলেছে পাঠদান। ২০১৮ সালের দিক থেকে এনটিআরসি থেকে শিক্ষক পদায়ন শুরু হয়। এসময় বিদ্যালয়ে আসে পূর্ণাঙ্গ ম্যানেজিং কমিটি।
অনেক বছর পরে ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ে নিয়োগ হয় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক হিসেবে আবু সালেহ মুসা এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা। এনটিআরসি থেকে নিয়োগ হয় একঝাঁক মেধাবী তরুণ শিক্ষক। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান বাড়তে থাকে। মূলত সেই ছন্দপতন থেকে বিদ্যালয়ের পুরানো গৌরব ফিরতে শুরু করে। ২০২৪ সালের এসএসসি ফলাফলে উপজেলায় ২য় স্থান লাভ করে এবং উপজেলার সেরা বিদ্যাপীঠও হয়েছে বিদ্যালয়টি। অনেক অনেক বছর পর এবছর ২০২৫ সালের এসএসসি ফলাফলে অত্র বিদ্যালয় ফলাফলে প্রথম স্থান লাভ করেছে।
প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ মুসা জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অন্য স্কুলে চাকরি নেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে সেই হাল ধরেন রেবেকা সুলতানা। এরপর ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জীবননগর উপজেলার মধ্যে ফলাফলে জীবননগর উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হওয়ার গৌরব অর্জন করে জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আর জিপিএ-৫ এ জীবননগর উপজেলায় চতুর্থ হয় বিদ্যালয়টি।
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের ফলাফলে দেখা যায়, এই বিদ্যালয় থেকে ৬৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৬৭ জন। ফেল করেছে মাত্র একজন। আরেকজন অনুপস্থিত। পাশের হার ৯৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। অনুপস্থিতসহ পাশের হার ৯৭ দশমিক ১০ শতাংশ। এই হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে শাপলাকলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে। তৃতীয় হয়েছে হাসাদাহ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তাদের পাশের হার ৯৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এদিকে, ৬৮ জন পরীক্ষা দিয়ে জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৮ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ জন পেয়েছে এ গ্রেড।
জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘আমাদের সকল শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর তাদের সেরাটা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা এবার পাশের দিক দিয়ে উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছি। আগামীতে আমরা এই সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা করব।’
জীবননগর অফিস