কালীগঞ্জে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন আপন দুই ভাই মহব্বত হোসেন ও ইউনুস আলী। নিহতরা জামায়াত নাকি বিএনপি কর্মী, তা নিয়ে চলছে দল দুটির ঠেলাঠেলি। বিএনপি বলছে, নিহতরা জামায়াত কর্মী। আর জামায়াত বলছে, তারা কোনো দিনও তাদের কর্মী ছিল না। ঘটনাটি এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। একটি পরিবার যখন তাদের কর্মক্ষম দুই অভিভাবক হারিয়ে বাকরুদ্ধ, তখন তাদের নিয়ে ঠেলাঠেলির এই রাজনীতি পরিবার দুইটির মাঝে গভীর হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জামাল ইউনিয়নের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিএনপির অপর পক্ষ আরিফ, লিটন, বুলু ও আশরাফ সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে পহেলা জুন সকালে জামাল ইউনিয়নের নাকোবাড়িয়া গ্রামে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত ৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ঘটনার দিন মহব্বত হোসেন ও ৩ দিন পর বড় ভাই ইউনুছ আলী মারা যান। এ ঘটনার পর থেকেই নিহত দুই ভাইকে নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের ঠেলাঠেলি শুরু হয়। নিহতদের জামায়াত কর্মী বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও, পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াত বিএনপির দাবি উড়িয়ে দিয়েছে।
গত ১১ জুন উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করা হয় নিহতরা জামায়াত কর্মী। দীর্ঘদিন তারা জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। প্রমাণ হিসেবে জামায়াতের একটি অনুষ্ঠানে নিহত ইউনুছ আলীর উপস্থিতির ছবি তুলে ধরা হয়। শহরের নলডাঙ্গা সড়কের কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস রহমান মিঠু।
এদিকে, গত শনিবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের বাকুলিয়ায় জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির আব্দুল হক মোল্লা বলেন, নিহত মতব্বত আলী ও ইউনুছ আলী কখনও তাদের কর্মী ছিলেন না। তিনি বলেন, জামায়াত কখনোই হত্যার রাজনীতি করে না।
ঝিনাইদহ অফিস