রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে স্কুলমাঠে রাস্তার নির্মাণসামগ্রী, ধোঁয়ায় নাজেহাল শিক্ষার্থীরা

১১টার আগেই বন্ধ হচ্ছে ক্লাস, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য
  • আপলোড তারিখঃ ২২-০৫-২০২৫ ইং
ঝিনাইদহে স্কুলমাঠে রাস্তার নির্মাণসামগ্রী, ধোঁয়ায় নাজেহাল শিক্ষার্থীরা

স্কুলমাঠে রাস্তা নির্মাণের বিশাল সরঞ্জাম মজুদ। দিনভর চলছে ভারি মিক্সার মেশিনের গড়গড় শব্দ। ধোঁয়া আর ধুলার কারণে শ্রেণিকক্ষে বসতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই চলছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। বিদ্যালয়টি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালীচরণপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।


সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীচরণপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সড়ক নির্মাণের পাথর, বালি এবং বিটুমিনের ব্যারেল পড়ে রয়েছে। পাশেই চলছে বিটুমিন জ্বালানোর কাজ। এতে ঘন কালো ক্ষতিকর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়। ধোঁয়া এড়াতে স্কুলের বারান্দা ঢেকে দেওয়া হয়েছে পলিথিনে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেওয়ায় প্রতিদিন বেলা ১১টার দিকে স্কুল ছুটি দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।


ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র সাকিব হোসেন এবং ছাত্রী সুমাইয়া জানান, তাদের স্কুলের মাঠে সড়ক নির্মাণের পাথর, বালি রাখা হয়েছে এবং পিচ (বিটুমিন) জ্বালানো হচ্ছে। পুরো মাঠ পাথরে ছাওয়া। কালো ধোঁয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা যাচ্ছে না। ভারি যানবাহন চলাচলের ফলে স্কুল মাঠ কাদা হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলিবর্দ্দি বিশ্বাস বলেন, স্কুলমাঠে সড়ক নির্মাণসামগ্রী রাখার ব্যাপারে তিনি শুরু থেকেই বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে কিছুই করতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হয়েছে।


ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সামনে থেকে নারিকেলবাড়িয়া বাজার পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয় চার মাস আগে। ওই সড়ক নির্মাণের জন্য পাথর, বালি ও বিটুমিনের ব্যারেল রাখা হয়েছে মোসলেম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। ঠিকাদার মিঠু খাঁন ও রাসেল আহমেদ স্কুলমাঠে এসব মালামাল রেখেছেন এবং সেখানেই বিটুমিন জ্বালানোর কাজ করছেন।


এ বিষয়ে ঠিকাদার মিঠু খাঁ বলেন, সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। এলাকার মানুষ ও স্কুল কমিটির লোকজন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে স্কুলমাঠ ব্যবহারের জন্য আমাদের অনুমতি দিয়েছেন। বিটুমিন এক থেকে দুই দিন জ্বালানো হয়েছে। মাঠে ধান ও অন্যান্য ফসল থাকায় আমরা খোলা জায়গা না পেয়ে স্কুলমাঠ ব্যবহার করেছি।


ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্কুলমাঠে মালামাল রাখা হয়েছে কি না, তা জানা নেই। যদি স্কুল মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই ভুল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি চাইলে তারা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারে। তবে পাঠদান ব্যাহত হয় বা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হয়, এমন কোনো কাজ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত