ঝিনাইদহে ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির অনলাইন কার্ড সেবা শুরু হলেও বিড়ম্বনা বেড়েছে। সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েক মাস ধরে ম্যানুয়াল টিকা কার্ডের সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য সহকারীরা হিমশিম খাচ্ছেন, সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। জানা গেছে, ইপিআই কর্মসূচির আওতায় নবজাতক, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বিভিন্ন টিকা প্রদান করা হয়। প্রথমদিকে যক্ষ¥া, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, পোলিও ও হামের টিকা দেওয়া হতো। বর্তমানে এ কর্মসূচির মাধ্যমে ১০টি টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিথিলা ইসলাম জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ইপিআই কর্মসূচি চালু হয়। আগে নির্ধারিত ম্যানুয়াল কার্ড ছিল। এখন সরবরাহ বন্ধ। অনলাইন সেবা চালু হয়েছে। কিছুটা সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। উপ-শহরপাড়ার সুমি শারমিন বলেন, ‘আগে ম্যানুয়াল কার্ড থাকায় কোনো সমস্যা হতো না। এখন অনলাইন কার্ড ডাউনলোড করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।’ ব্যাপারীপাড়ার হালিমা খাতুন বলেন, ‘ম্যানুয়াল কার্ড বন্ধ হওয়ায় সময়মতো টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। অনলাইন কার্ড ডাউনলোড করা কঠিন, স্বাস্থ্য সহকারীরাও সাহায্য করতে পারছেন না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাস্থ্য সহকারী জানান, ‘ম্যানুয়াল কার্ডে কাজ সহজ ছিল। অনলাইন কার্ডের নিবন্ধন ও ডাউনলোডে সমস্যা হচ্ছে। ফলে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।’
জানা গেছে, ৮ মাস আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ম্যানুয়াল টিকাকার্ড সরবরাহ বন্ধ করে অনলাইন সেবা চালু করেছে। গ্রাহকদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কার্ড ডাউনলোড করতে হচ্ছে। তবে সামান্য ভুলত্রুটিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘নতুন সেবা চালু হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। আমরা মনে করি, দ্রুতই এ বিড়ম্বনা কেটে যাবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন