আলমডাঙ্গায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন আব্দুল বারী। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি আলমডাঙ্গা কোর্টপাড়ায় দীর্ঘ ২১ বছর আগে জমি ক্রয় করে নিজ দখলে রাখি। তবে একই এলাকার মৃত ভিকু শেখের ছেলে চা দোকানি নাজির শেখ গং জোরপূর্বক আমার জমিতে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। উল্লেখ্য, জমির প্রকৃত মালিক আমি (আব্দুল বারী) ওই সময়ে বিদেশে কর্মরত ছিলাম। সেই সুযোগে নাজির শেখ গং বেআইনিভাবে জমি দখল করে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে।
আব্দুল বারী লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, চা দোকানি নাজির শেখের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই এবং জমির আশপাশেও তাদের কোনো জমি নেই। আমরা বারবার তাদের অনুরোধ করি ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে, কিন্তু তারা আমাদের অনুরোধকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেছে। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা সেনাবাহিনীর আশ্রয় গ্রহণ করি। গত ১৮ এপ্রিল সেনা ক্যাম্প কমান্ডার দু’পক্ষকে ডেকে জমির কাগজপত্র প্রদর্শনের নির্দেশ দেন। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমির কাগজপত্র প্রদর্শন করি, কিন্তু নাজির শেখ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। পরে সেনা কমান্ডার উভয় পক্ষের সামনে আমাদের জমির দখল নিতে বলেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় আমিন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমি মাপজোখ করে, আমাদের দলিল ও খারিজ অনুযায়ী জমির দখল বুঝে নিই। সে সময় দখলদার নাজির শেখ তার অস্থায়ী ঘর সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তা লিখিতভাবে স্বীকার করেন। কিন্তু পরদিন তিনি জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকায় কোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টি না করে ফিরে আসি।
আব্দুল বারী আরোও অভিযোগ করেন, নাজির শেখ গং এখন সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা বলছে, আমরা নাকি তাদের বসবাসরত ঘর ভেঙে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করেছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃত মালিক আমি। যদি তাদের কোনো দাবি থাকত, তাহলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হতো। তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই; কেবল সস্তা আবেগ দেখাচ্ছে। চা দোকানি নাজির শেখ এখন চরম বিপদে রয়েছে-এমন প্রচার চালাচ্ছে, অথচ অন্যের জমি দখল করে বসবাস করছে। প্রকৃত মালিক হয়ে কি আমরা আমাদের জমি ছেড়ে দেব?
তিনি উল্লেখ করেন, সীমানা নির্ধারণ হওয়ার পরও তারা আমাদের ক্রয়কৃত সাত শতক জমিতে ঘর নির্মাণ করে এবং অতিরিক্ত আড়াই শতক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিক আব্দুল বারী প্রশাসনের কাছে তদন্তপূর্বক দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন