দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক মো. সাজিদ হাসানের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সাজিদ হাসান (৪০) মদনা গ্রামের মৃত ওয়াহেদুসজ্জামানের ছেলে। গত শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে সাজিদের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ সাজিদ হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের ওই স্কুলছাত্রী ২০২০ সালে দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় একই স্কুল এন্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক সাজিদ হাসানের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। প্রেমের সম্পর্ক চলাকালীন অবস্থায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে দামুড়হুদা মডেল থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করে।
মামলায় উল্লেখ করে, গত ২০২০সাল থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত ছাত্রীকে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে বহুবার ধর্ষণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত ১ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গুলশানপাড়ায় আসামির প্রাইভেট পড়ানো রুমে আবারো ধর্ষণ করে। কিন্তু বিয়ের কথা বললে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে। কোনো কুল কিনারা না পেয়ে এ বিষয়ে ছাত্রী বাদী হয়ে মডেল থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ০৩) এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করে। দামুড়হুদা মডেল থানার মামলা নং ১৮, তাং ২৫/০৪/২০২৫ খ্রি:।
দামুড়হুদা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোছা. ফাহমিদা রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমরা মিটিং করে সাজিদ হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছি। এবং তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা মিলে তার বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও এমন একটি ঘটনায় মোবাইল কোর্টে তাকে জরিমানা করা হয়েছিল। সে সময় তার বিরুদ্ধে রেজুলেশনও করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে দামুড়হুদা উপজেলার দ্বাদশ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে তৎকালীন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল হাসান মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষক সাজিদ হাসানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সে সময় শিক্ষক সাজিদ হাসান জরিমানার টাকা নগদে পরিশোধ করে মুক্ত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে এ ধরনের কার্যক্রম করবে না বলে মুচলেকা দিয়েছিলো।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে শিক্ষক সাজিদ হাসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে একটি এজাহার দায়ের করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন