দামুড়হুদায় বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ শাজাহানসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর কাঁঠালতলায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ১৫টি মেহগনি গাছ কেটে নেয়া হয়। এদিকে, গাছ কাটতে বাধা দিলে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় গতকালই ভুক্তভোগী শাহিন আলী বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ৩৫-৪০ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জয়রামপুর কাঁঠালতলা বাজার সংলগ্ন ঘরবাড়ি ও বাগানসহ উল্লেখিত জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন শাহিন আলী ও তার পরিবার। তবে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিয়ে প্রতিপক্ষদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছে। বর্তমানে জমিটি সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা নম্বর ৪৬/২৩ দামুড়হুদা সহকারী জজ আদালতে এবং পিটিশন মামলা নম্বর ৫৮৮/২৩ চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে শাহিন আলী উল্লেখ করেন, মামলাগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যেই প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন সময় গাছ ও জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্ত শাজাহান ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কোদাল, কুড়াল, করাত, দা, হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাগানে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ১৫টি মেহগনি গাছ কর্তন করে। যার আনুমানিক ক্ষতি প্রায় ৩ লাখ টাকা।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গাছ কাটতে বাধা দিলে প্রতিপক্ষরা বাদী শাহিন আলীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং মারধর শুরু করে। মামলার বাদী শাহিন আলীর মা শাহিদা খাতুন (৬২) ও চাচী স্বপ্না খাতুন (৩০) ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। হামলায় তারা শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতপ্রাপ্ত হন, নাক-মুখ দিয়ে রক্তপাত হয় এবং শরীরে নিলাফোলা জখমের চিহ্ন দেখা যায়।
এসময় তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষরা তাদের সামনেই বাদী পরিবারকে খুন-জখমের হুমকি দিতে থাকে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। শাহিন আলীর দাবি, প্রতিপক্ষরা চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ ও লাঠিয়াল প্রকৃতির লোক। যেকোনো সময় তারা আবারও ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। উল্লেখ্য, বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের নির্দেশনায় একটি বিজ্ঞপ্তি বোর্ড লাগানো ছিল, যা প্রতিপক্ষরা খুলে ফেলে দিয়েছে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন