বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে গুমোট পরিবেশ

  • আপলোড তারিখঃ ২২-০৪-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে গুমোট পরিবেশ

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে জটিলতা যেন কাটছে না। ষষ্ঠ গ্রেডে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষকদের উপেক্ষা করে কলেজের নবম গ্রেডের একজন প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া দেয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের (অ্যাডহক কমিটি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক শামীমা সুলতানাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে নানা নাটকীয়তা শেষে ৬২ দিন পর কলেজের গভর্নিং বডির সভায় তার নিয়োগ বিধিবহির্ভূত নয় বলে উল্লেখ করলেও, ওই সভায়ই তার নিয়োগ বাতিল করে জুনিয়র প্রভাষক আয়েশা আক্তার রিক্তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ১৬ এপ্রিল গভর্নিং বডির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ নিয়ে গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে কলেজ প্রাঙ্গনে। যা কলেজের উপযুক্ত শিক্ষা কার্যক্রমকেও প্রাভাবিত করছে।
এদিকে, দায়িত্ব পাওয়ার পরই গত ১৬ এপ্রিল দুপুরে তড়িঘড়ি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন রিক্তা। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানাতে গতকাল সোমবার কলেজের অধ্যক্ষ কক্ষে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন তিনি। সেখানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িতপ্রাপ্ত আয়েশা আক্তার রিক্তা বলেন, ‘আমি খুব অল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে এসেছি, সকলের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে কলেজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই।’ এসময় গণমাধ্যমের বেশকিছু প্রশ্নে স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে কৌশলে দায়িত্ব প্রদানকারী গভর্নিং বডির ওপর দায় চাপিয়ে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে রাখেন।
এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২-এর ২৪(ঢ) ও ২৬(৩) ধারা এবং রেগুলেশনের ৪(র) অনুযায়ী, কলেজের অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে উপাধ্যক্ষ না থাকলে জ্যেষ্ঠতম পাঁচজন শিক্ষকের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখানে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তি হিসেবে যোগদানের তারিখ নির্ধারিত, এমপিওভুক্তির তারিখ নয়।
এই নীতিমালার আলোকে দেখা যায়, কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন নাজনীন আরা খাতুন (বাংলা বিভাগ, জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক, গ্রেড-৬), শাপলা খাতুন (যুক্তিবিদ্যা বিভাগ, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক, গ্রেড-৬), তৌহিদুজ্জামান (ব্যবস্থাপনা বিভাগ, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক, গ্রেড-৬), আব্দুল কুদ্দুস রতন (ইতিহাস বিভাগ, প্রভাষক) যিনি সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রিক্তার থেকেও সিনিয়র। ফলে রিক্তাকে নিয়োগ দেওয়া বিধি বহির্ভূত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ৬ষ্ঠ গ্রেডে চাকরি করছি, অথচ আমাদের উপেক্ষা করে একজন নবম গ্রেডধারী জুনিয়র প্রভাষককে আমাদের উপর বসানো হয়েছে।’ চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের এক অভিভাবক বলেন, ‘এভাবে নাটকীয়ভাবে অধ্যক্ষ পরিবর্তন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ আর শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হবে।’
উল্লেখ্য, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু রাশেদের অবসরজনিত শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে গত ১১ ফেব্রুয়ারি কলেজের গভর্নিং বডির সভায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয় এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি শামীমা সুলতানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তার নিয়োগের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা তীব্র প্রতিবাদ জানান, অধ্যক্ষের কক্ষে তালা লাগিয়ে আন্দোলন করেন, যা চলে ১৭ দিন।
ঘটনার নতুন মোড় আসে ১১ মার্চ, যখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের পক্ষে স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়, শামীমা সুলতানার নিয়োগ বিধি বহির্ভূত। কারণ তার বিষয় পদার্থবিজ্ঞান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত নয়। পত্রে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে বিধি অনুযায়ী নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, আন্দোলনের মধ্যে শামীমা সুলতানা কক্ষে ঢুকতে গেলে ফের তালা ভাঙার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, রিক্তা ও শামীমা কলেজের কিছু অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে তসরুপ করেছেন বলেও আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি। এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দয়িত্বপ্রাপ্ত প্রভাষক আয়েশা আক্তার রিক্তা বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করছি। প্রশাসন যখন চাইবে না, আমি তখন আমার জায়গা ছেড়ে দেব।’



কমেন্ট বক্স
notebook

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিবাদ মিছিল