দামুড়হুদা উপজেলার রামনগর গ্রামে ঘরে আগুন লেগে দগ্ধ হওয়া শিশু আরিশা (৫) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তার মত্যু হয়। আগুনে শরীরের ৪০ শতাংশের বেশি অংশ পুড়ে যাওয়ায় গত শনিবার তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে ঢামেকে রেফার্ড করা হয়। শিশুটি রামনগর গ্রামের রাজমিস্ত্রি কলম আলী ও পিংকি খাতুনের মেয়ে।
এর আগে গত শনিবার বেলা তিনটার দিকে ঘরে আগুন লাগার ঘটনায় সে মারাত্মক দগ্ধ হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় আরিশার মা বাইরে রান্না করছিলেন এবং ঘরের ভেতরে সে ঘুমাচ্ছিল। এসময় তার বড় ভাই আরাফাত (১২) পাটকাঠিতে আগুন জ্বালিয়ে খেলছিল। হঠাৎ আগুন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে ঘর আগুনে পুড়ে যায়।
কলম আলী বলেন, ‘ঘরে আমার মেয়ে ঘুমাচ্ছিল। আগুন লেগে যাওয়ার পর কেউ প্রথমে ভেতরে ঢুকতে পারছিল না। পরে আমি গায়ে ভেজা কাঁথা জড়িয়ে ঘরে ঢুকে মেয়েকে উদ্ধার করি এবং হাসপাতালে নিয়ে যাই।’ প্রথমে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইসলাম তাকে ঢামেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ডা. আফরিনা বলেন, ‘শিশুটির শরীরের ৪০ শতাংশের বেশি অংশ পুড়ে গিয়েছিল। অবস্থা শঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।’ অবশেষে ঢামেক আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বিকেলে প্রাণ হারায় আরিসা। গতকাল রাতে শিশুটির মরদেহ তার নিজ বাড়িতে নেয়া হয়।
গতকাল রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশু আরিসার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা ছিল। পরিবারের সদস্যরা লাশ নিজ গ্রামে ফিরিয়ে নিতে শাহাবাগ থানার ছাড়পত্রের অপেক্ষা করছিল
সমীকরণ প্রতিবেদন