শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সড়কে ঝরল ভ্যানচালক ও চাল ব্যবসায়ীর তরতাজা প্রাণ

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৪-২০২৫ ইং
সড়কে ঝরল ভ্যানচালক ও চাল ব্যবসায়ীর তরতাজা প্রাণ

চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়ক যেন মৃত্যুর ফাঁদ। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নয়মাইল বাজার চৌরাস্তা মোড়ে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যানচালক ও চাল ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছেন। নিহত ভ্যানচালক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের স্কুলপাড়ার মৃত মকসেদ মণ্ডলের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৭০) ও মোহাম্মদজমা গ্রামের খান্দারপাড়ার মৃত ইসমাইল খন্দকারের চেলে চাল ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন (৭৫)। অভিযোগ না থাকায় গতকালই ময়নাতদন্ত ছাড়ায় নিহতদের লাশের দাফন সম্পন্ন করে পরিবার। শেষ খবর পাওয়া পুলিশ ঘাতক পরিবহনটিকে সনাক্ত করতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে নয়মাইল বাজার মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ শেষে বের হওয়া মুসল্লিরা বিকট শব্দ শুনতে পান। তারা রাস্তার ওপর এসে দেখেন একটি পাখিভ্যান ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং রাস্তার পাশে দুজনের মরদেহ পড়ে আছে। এসময় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশে খবর দেয়া হয়।
স্থানীয় মুসল্লি আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘নামাজ শেষে বের হওয়ার পরপরই বিকট শব্দ পাই। এসময় দ্রুত রাস্তার ওপর এলে চাল ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন ও পাখিভ্যান চালক আব্দুর রাজ্জাককে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখি। মনে হচ্ছে ঢাকাগামী কোনো পরিবহন ভ্যানটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেছে। ভোরে আলো স্বল্পতার কারণে আমরা কেউই ঘাতক পরিহবন বা যানকে দেখতে পাইনি।’
গতকাল সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি ভ্যান সরোজগঞ্জ বাজারের দিকে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির বাস ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সাহায্যে মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ‘ভোরবেলা সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি ঘটনাস্থলে দুটি মরদেহ পড়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, নিহতদের একজন ভ্যানচালক, অপরজন চালের ব্যবসায়ী। ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকাগামী কোনো একটি বাসের ধাক্কায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কটি যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে যেন মৃত্যু নিশ্চিত। দুর্ঘটনা রোধে পরিবহনগুলোর গতি নিয়ন্ত্রণ অত্যান্ত জরুরি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) হোসেন আলী জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। উভয় পরিবারের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুপুর ১২টায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এদিকে, গতকাল জুম্মার নামজের পর পারিবারিক কবরস্থানে নিহত দুজনের লাশের দাফনকার্য সম্পন্ন হয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আরো ১১ বোয়িং বিমান কিনছে বাংলাদেশ