মেহেরপুরে আবুল খয়ের টোব্যাকো কোম্পানির ম্যানেজার আকরাম হোসেন ও এরিয়া ম্যানেজার ইকবালের বিরুদ্ধে চাষীদের সাথে প্রতারণা ও তামাক ফেরত দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে তামাক নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। আবুল খয়ের টোব্যাকো কোম্পানি মেহেরপুরে যোগদান করার পর থেকে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তামাক ক্রয় করে আসছেন আকরাম হোসেন। চাষীদের অভিযোগ, আবুল খয়ের কোম্পানি চাষীদের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অতিরিক্ত তামাক চাষের পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া ইচ্ছে মতো তামাক ক্রয় করার ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষীরা। প্রতি বছরের প্রথম দিকে তামাক ক্রয় শুরু হলেও চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে অজ্ঞাত কারণে তামাক ক্রয় বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে তামাক ক্রয় শুরু হলেও চাষীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে হাজার হাজার তামাক চাষী পথে বসবে।
আবুল খয়ের কোম্পানির একজন তামাক চাষী জানান, কোম্পানির ম্যানেজার আকরাম হোসেন ও এরিয়া ম্যানেজার ইকবাল হোসেন চাষীদের খোঁজখবর না নিয়ে সার্বক্ষণিক ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তি করে তামাক ক্রয় করছেন। ম্যানেজার আকরাম ও এরিয়া ম্যানেজার ইকবাল ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে উৎকোচ নিয়ে নিম্নমানের তামাক বেশি দাম দিচ্ছেন। চাষীরা আরও জানান, কারণ ছাড়ায় আবুল খয়ের কোম্পানি প্রকৃত তামাক চাষীদের ভালো তামাক ফেরত দিয়ে হয়রানি করছে।
জেলার গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া ডিপোতে তামাক নিয়ে গেলে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে চাষীদের সাথে প্রতারণা ও হয়রানি করা হচ্ছে। তামাকের ন্যায্য মূল্য না দিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে উৎকোচ নিয়ে নিম্নমানের তামাক বেশি দামে ক্রয় করছেন আকরাম হোসেন। যার ফলে বাধ্য হয়ে শত শত তামাক চাষী বাইরের জেলার ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে তামাক বিক্রয় করছেন। এবছরে তামাকের চাহিদা কম থাকায় আগামী বছরে তামাক চাষ মুখ থুবড়ে পড়বে বলে চাষীরা জানিয়েছেন।
গাংনী উপজেলার কালি গাংনী গ্রামের তামাক চাষী তমছের আলী জানান, ‘আমি গত বুধবার গাড়াবাড়িয়া ডিপোতে তামাক নিয়ে গেলে আমার ৫টি বেল তামাক কারণ ছাড়াই রিজেক্ট করেছেন। প্রতিদিন শত শত বেল তামাক ফেরত দিয়ে চাষীদের সাথে প্রতারণা শুরু করেছেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের তামাক বিক্রয় করছেন কোম্পানি কর্মকর্তারা।’
গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের আবুল খয়ের কোম্পানির তামাক চাষী জমশেদ আলী জানান, ‘তামাকের রেট ভালো দিচ্ছেন। তবে চাষীদের তামাক না নিয়ে ভিন্ন কারণ দেখিয়ে কর্মকর্তারা অধিকাংশ তামাক ফেরত দিচ্ছে, গতকাল আমার দুই বেল তামাক ফেরত দিয়েছেন। তামাক চাষীরা এ বছর তামাক বিক্রয় করতে না পেরে আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছে।’
এ বিষয়ে মেহেরপুর আবুল খয়ের টোব্যাকো কোম্পানির ম্যানেজার আকরাম হোসেন জানান, ‘আমরা চাষীদের সাথে প্রতারণা করছি না। চাষীরা তামাকের বেলের ভেতরে দড়ি ও তামাকের কোয়ালিটি না করে বেল বেঁধে নিয়ে এসেছে। এ কারণে তাদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে আগামী দিনে পরিষ্কার করে বেল নিয়ে আসলে সব তামাক নেয়া হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন