সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নানা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা

সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০৩-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নানা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা

চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আদালত সহায়তা কার্যক্রম, সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ, মানবপাচার দমন, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অনিষ্পন্ন চোরাচালান মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের সঠিক ও সমন্বিত পরিসংখ্যান প্রস্তুত, জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির কার্যক্রম জোরদার এবং জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।


সভায় পুলিশ সুপার বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে জেলা পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সন্ত্রাস, মাদক, মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এসময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ মাদক ও ধূমপান বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শুধু প্রশাসন বা শিক্ষক নয়, অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। অনেক স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে সিগারেট খেতে দেখা যায়। স্কুলের আশপাশের দোকানগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সিগারেট বিক্রি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।


তিনি আরও বলেন, ভি জে স্কুল ও গার্লস স্কুলে ভর্তির জন্য বিভিন্ন পর্যায় থেকে তদবির এলেও শিক্ষার মান ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা হয় না। এসব প্রতিষ্ঠানের রুটিন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা উচিত। পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতি মাসে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।


সভায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন সীমান্তে জব্দ হওয়া চোরাচালান পণ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সীমান্ত থেকে প্রায় ৯৭ হাজার টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে, কিন্তু এসব মালামাল বহনকারী কেউ ধরা পড়েনি এবং মামলা হয়নি- এ বিষয়টি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিজিবি-৬ চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, অনেক সময় সীমান্তের কাঁটাতারের ওপার থেকে ফেনসিডিল বা অন্যান্য পণ্য প্যাকেট করে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। মাদক বহনকারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাঁটাতারের এপারে আসে না। সন্দেহভাজন কাউকে থামতে বললে অনেক সময় তারা সঙ্গে থাকা পণ্য ফেলে পালিয়ে যায়। সীমান্ত এলাকায় ভুট্টাখেত বা ঝোপঝাড় এবং রাতের অন্ধকারে অনেক সময় তাদের ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নিশ্চিত তথ্য পেলে অভিযুক্তদের ধরতে বিজিবি সক্ষম এবং এ বিষয়ে আরও তৎপরতা বাড়ানো হবে।


সভায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল আলমডাঙ্গার হারদী এলাকায় ফারুক নামের এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পার হলেও এ ঘটনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি জানা যায়নি। এর জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ওই ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুলিশ কাজ করছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও বিষয়টি তদন্ত করছে। তিনি জানান, নিখোঁজ ফারুক সাধারণত বাইরে যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন সঙ্গে নিতেন, তবে নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি মোবাইল নেননি। ঘটনাটি পরিকল্পিত নাকি অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন- সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

ঝিনাইদহে তেল নিয়ে বিবাদ, বৈষম্যবিরোধী কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার জেরে