আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
ঈদ সামনে রেখে বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত। প্রতিদিন মহেশপুর বিজিবির হাতে লাখ লাখ টাকার মাদক আটক হলেও বেশির ভাগ চালান পাচার হয়ে যাচ্ছে। সীমান্তের কথিত ১৩টি ঘাট অলিখিতভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও বিজিবি সেখান থেকে মাসোহারা নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত এলাকা ঘুরে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলো অস্ত্র, মাদক, সোনা, মুদ্রা ও গরু পাচারের হটস্পট হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে চোরাকারবারি দলের একাধিক সদস্য। দিনে তারা মাঠে কামলা খাটলেও রাতে সরব হয়ে ওঠে ভারতীয় পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে।
বিজিবি, পুলিশ ও সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে সক্রিয় চোরাকারবারি ও তাদের নিয়োজিত বহনকারীর সংখ্যা প্রায় দুই শত। এর মধ্যে ৮০ জনের নামে মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের ওপারে রয়েছে ১০ থেকে ১২ জন গডফাদার। ওপারে বিএসএফ এবং এপারে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সারা বছরই চোরাকারবারি চলতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ সালের ১৫ মাসে বিজিবি শুধু মাদক উদ্ধার করে ধ্বংস করেছে ১১৯ কোটি টাকার। ২০২১ সালে মাদক ধ্বংসের পরিমাণ ছিল ২ কোটি টাকা। এছাড়া ২০২৩ সালে ৮ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করা হয়েছিল। ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে ছিল- ২৫ হাজার ৮১৩ বোতল ফেনসিডিল, ৩৮ হাজার ৯৮০ বোতল ভারতীয় মদ, ২৯ বোতল এলএসডি, ৯০ কেজি কোকেন, ৩৬ কেজি হেরোইন, ৬ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৩০ কেজি গাঁজা, ৬৬ হাজার ইয়াবা বড়ি, ২১ হাজার ভায়াগ্রা এবং ২০ হাজার বাংলাদেশি ও ভারতীয় ওষুধ। এসবের বাজারমূল্য প্রায় ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার ২০২ টাকা।
সীমান্তের বাসিন্দাদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার ও ধ্বংসের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে প্রতি বছর এই সীমান্ত দিয়ে শত শত কোটি টাকার মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পুলিশ ও বিজিবি খুব কম পরিমাণ মাদক উদ্ধার করতে পারছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, উদ্ধার হওয়া মাদকের তুলনায় আসামি গ্রেপ্তারের চিত্র খুবই হতাশাজনক। অধিকাংশ মাদক পরিত্যক্ত বা মালিকবিহীন হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ফলে সীমান্তের শতাধিক কারবারি থেকে যাচ্ছে অধরা। সীমান্ত দিয়ে মাদকের ভয়াবহ প্রবেশ নিয়ে মহেশপুর-৫৮ বিজিবির অধিনায়কের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইদহ অফিস