চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে লিফ্টে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অন্তত ১৫ জন মানুষ প্রায় ১০ মিনিট ধরে আটকা পড়েন। গতকাল বুধবার দুপুরে হাসপাতালের সম্প্রসারিত মূল ভবনের লিফটে এই ঘটনা ঘটে। আটকে পড়াদের মধ্যে রোগী, তাদের স্বজন ও হাসপাতালের একজন কর্মচারীরাও ছিলেন। ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছে যায়। তবে তাদের সক্রিয় হবার আগেই হাসপাতালের জেনারেটর চালু করে লিফট সচল করা হয়। পরে লিফটের দরজা উন্মুক্ত হলে আটকে পড়া লোকজন নিরাপদে বেরিয়ে আসেন।
একজন আটকে পড়া রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার মা স্ট্রোকের রোগী, তাকে নিয়ে আমি লিফটে পাঁচতলায় উঠছিলাম। হঠাৎ লিফট বন্ধ হয়ে যায়, আলো নিভে যায়। মায়ের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। আমরা ভেতরে গরম ও আতঙ্কে চিৎকার করছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর লিফট চালু হলে আমরা বের হতে পারি। এরকম ঘটনা যেন আর না হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। না হলে গুরুতর কোনো রোগী আটকে গেলে তার জীবন বিপণ্ন হতে পারে।’
হাসপাতালের জেনারেটর অপারেটর মোতালেব হোসেন রনি জানান, ‘লিফটটি ১০ মিনিটের মতো আটকে ছিল। এটি একটি যান্ত্রিক ত্রুটি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে জেনারেটর চালিয়ে লিফটটি সচল করি। তবে এর আগেই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হাসপাতালে পৌঁছায়। লিফট সচল হয়ে দরজা উন্মুক্ত হলে আটকে পড়া লোকজন বের হন। রিজার্ভ ব্যাটারির চার্জে ত্রুটির কারণেই এমনটি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আমরা সতর্ক রয়েছি।’
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রকিব সাদী বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণেই লিফট আটকে যায়। যদিও লিফটে স্বয়ংক্রিয় একটি ব্যবস্থা রয়েছে যা লোডশেডিং হলে নিজে থেকে ফ্লোরে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাটারির চার্জ না থাকায় লিফটটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। এই ঘটনাটি এবারই প্রথম ঘটেছে, তবে দ্রুত সময়ে জেনারেটরের মাধ্যমে লিফট সচল করা হয়েছে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন