ঝিনাইদহে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে পিতা-পুত্রের পিটুনির শিকার হয়ে মোহাম্মদ আলী (৫৭) নামের এক মুদি দোকানি নিহত হয়েছেন। গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বাদপুকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মাদ আলী বাদপুকুরিয়া গ্রামের তেনু মিয়ার ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে মুদির দোকান দিয়ে ব্যবসা করতেন। এদিকে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনেরা। সদর উপজেলার ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের উত্তর নারায়ণপুরে ত্রিমোহনী মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘটনার পরে মামলা নিতে সদর থানা-পুলিশ টালবাহানা করছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সড়ক অবরোধ করে লাশ নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। এসময় সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাওনা টাকা চাওয়ায় স্থানীয় বাদপুকুরিয়া গ্রামের মুদি দোকানি মোহাম্মদ আলীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আসাদুল ইসলাম (১৯), তার বাবা আশকর আলী (৬২) ও আশকর আলীর স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আসাদুল ইসলামের কাছে যান মুদি দোকানি মোহাম্মদ আলী। ওই সময় আসাদুল ইসলাম (১৯), তার বাবা আশকর আলী (৬২), আশকার আলীর স্ত্রী মিলে দোকানি মোহাম্মদ আলীকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে মোহাম্মদ আলী চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় স্থানীয়রা এসে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান দোকানি মোহাম্মদ আলী।
এদিকে ঘটনার পরে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সদর থানা থানা-পুলিশ হত্যা মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের। তারা জানিয়েছেন, দুপুর থেকে মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও পুলিশ নানান অজুহাত দেখিয়ে মামলা নিচ্ছে না। যে কারণে নিহতের স্বজনরা রাতেই লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছে।
নিহতের ছেলে মশিয়ার রহমান বলেন, ‘পাওনা টাকা চাইতে গেলে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা যেন মামলা না করি, তার জন্য নানা রকম চাপ দেয়া হচ্ছে। থানায় গিয়ে মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও পুলিশ গড়িমসি করে মামলা নেয়নি।’
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা না নেওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা মামলা নিয়ে এলে এজাহার সংশোধন করতে বলা হয়েছে। এরপর আর তারা আসেনি। লাশ নিয়ে সড়ক আটকে বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া বলেন, বিক্ষোভ কেন করছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলা না নেওয়ার মতো কিছু নেই। অবশ্যই মামলা নেবে পুলিশ। তারপরও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
সমীকরণ প্রতিবেদন