সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন ¯্রডো ও ইউএনডিপির প্রতিনিধি দল

  • আপলোড তারিখঃ ১১-১০-২০১৭ ইং
নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন ¯্রডো ও ইউএনডিপির প্রতিনিধি দল
সরকারি উদ্যোগে নির্মিত সৌরচালিত নৌকার আরও একটি ভাসলো মাথাভাঙ্গায় টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের মাইলফলক নিজস্ব প্রতিবেদক: নদীর জীববৈচিত্র রক্ষা, শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকার ব্যবহার কমিয়ে আনা ও সৌর শক্তির ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে সরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম সৌর চালিত নৌকার ৪র্থ (আপডেট-৪) মডেলের পরীক্ষা গতকাল মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে ২য় মডেলটির পূর্বে চিহ্নিত ক্রটিগুলো সংশোধন করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (¯্রডো) ও ইউএনডিপির শীর্ষ কর্মকর্তা, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সোলার-ই-টেকনোলজির প্রকৌশলী ও গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় তাঁরা চুয়াডাঙ্গা আলোকদিয়া ঘাট থেকে পরীক্ষামূলক চালুকৃত নৌকাটিতে চড়ে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ নদী ভ্রমণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কর্মকর্তারা এই উদ্ভাবনকে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ¯্রডোর পরিচালক (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) শেখ রিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও সৌরবিদ্যুৎ-চালিত নৌকার সুফল তুলে ধরে বলেন, ‘২০২০ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০-এর ৭ নম্বর লক্ষ্যটি বাস্তবায়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকার ব্যবহার কমিয়ে সৌর শক্তির ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে সরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম সৌর চালিত নৌকা তৈরী ও চলাচল কার্যক্রমের এটি পাইলট প্রোজেক্ট। এ প্রোজেক্টের মাধ্যমে আমরা ৫টি সৌর চালিত নৌকা (সোলার বোট) তৈরীর পরিকল্পনা করেছি। যার মধ্যে ৩টি মডেল ইতিপূর্বে পরীক্ষামূল চলাচল শেষে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত হচ্ছে।’ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সোলার-ই-টেক’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাইমুল ইসলাম বলেন, ‘ ¯্রডোর ত্বত্তাবধানে ইউএনডিপির অর্থায়নে চুক্তি অনুযায়ী পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) সৌরবিদ্যুৎ-চালিত মোট পাঁচটি নৌকা (সোলার বোটিং) তৈরির প্রকল্প হাতে নেয় আমাদের প্রতিষ্ঠান। শর্ত অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৪টি মডেল নির্মাণ ও কার্যক্রম পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী দুটি নৌকা সনাতন পদ্ধতি (ডিজেল ইঞ্জিনচালিত) ও অপর দু’টি সৌরবিদ্যুতের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে ২য় ও ৪র্থ মডেলটি সৌর শক্তির মাধ্যমে সোলার প্যানেল থেকে সরাসরি চার্জ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। শক্তিশালী, টেকসই ও গতি সম্পন্ন এ নৌকা দু’টিতে লাগানো হয়েছে চীন থেকে আমদানীকৃত দু’টি করে চারটি সাব মারসিবল প্রপেলার (মোটর সম্বলিত ঘুর্নয়মান পাখা)। এক একটি প্রপেলার ৮ হর্স পাওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন। তবে ২য় মডেলটিতে দু’টি সুবিধাই রয়েছে। সেক্ষেত্রে আজ যে মডেলটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করা হলো সেটিতে শুধু মাত্র সোলার পাওয়ার কাজে লাগানো হয়েছে। এই নৌকাটিতে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৩০ জন। একবার ফুল চার্জ হলে চলবে একটানা ৫ ঘন্টা। তবে সূর্যের আলো থাকলে অবিরত ভাবে চার্জ হতেই থাকবে। চুয়াডাঙ্গায় সোলার-ই-টেকনোলজির নিজস্ব কারখানায় এগুলো তৈরি করা হচ্ছে।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের নৌ স্থাপত্য এবং সমুদ্র প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাদা তরফদার, ইউএনডিপি’র প্রতিনিধি জাপানী বংশদূত কাজুসি হিরোহাতা, মাহসিন হামুদা ও মায়িশা আজহার। এরআগে অতিথিদের সামনে সৌরচালিত নৌকার কারিগরি বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাইমুল ইসলাম। নৌকা দু’টির অবকাঠামো নির্মাণ ও পরীক্ষামূলক চলাচলে সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন প্রকৌশলী আহমেদুল কবীর।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড