শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারাদেশে মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপিত

  • আপলোড তারিখঃ ২৭-০৩-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারাদেশে মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপিত

সমীকরণ প্রতিবেদন:
নানা আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে সর্বস্তরের মানুষ শহিদদের শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করে। বৈষম্যমুক্ত বিভাজনহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ছিল তাদের মুখে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবারের স্বাধীনতা দিবসে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। অনেকের হাতে ছিল লাল-সবুজ পতাকা। প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয় দিবসের কর্মসূচি। সূর্যোদয়ের সময়ে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকশ দল তাদের রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। এরপর শ্রদ্ধা জানান বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা। শ্রদ্ধা জানান উপদেষ্টামণ্ডলী ও বিদেশি কূটনীতিকরাও। এদিকে, সারাদেশের ন্যায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ:
নানা আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় চুয়াডাঙ্গায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পবিত্র রমজানের ভাবগাম্ভির্য্য বজায় রেখে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনভর নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার শহিদ হাসান চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির কার্যালয়েয় জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে শহিদবেদি উন্মুক্ত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম. সাইফুল্লাহসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

এরপর চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলার নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করে জেলা পুলিশ বিভাগ। সাথে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) কনক কুমার দাস, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) তাজরিনা সুলতানা, ডিআইও-১, ডিএসবি, অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা, ইনচার্জ, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল; আরআই, পুলিশ লাইন্স, চুয়াডাঙ্গাসহ জেলা পুলিশের সকল পদমর্যাদার অফিসার-ফোর্স। এরপর চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে শহিদবেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দীন। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশিদের নেতৃত্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শহিদবেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগ, চুয়াডাঙ্গা পৌর পরিষদ, সদর উপজেলা প্রশাসন, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা অফিস, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, ব্যাংক-বীমা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এদিন সকল সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

পুরাতন স্টেডিয়ামে সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ:
সকাল ৯টায় জেলা স্টেডিয়াম মাঠে (পুরাতন) সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত উচ্চারণের মধ্যদিয়ে দিনের ২য় পর্যায়ের কর্মসূচি শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের তালে তালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম সেবা’র সাথে নিয়ে শান্তির প্রতীক শ্বেতকপোত ও রঙিন বেলুন অবমুক্ত করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এরপর প্যারেড কমান্ডার চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের আরআই-এর চৌকস প্রহরায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।

এসময় জেলা প্রশাসক স্টেডিয়ামে আগত ও জেলার সকলের উদ্দেশ্যে দেশের মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘৩০ লাখ শহিদের রক্তে ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি লাল-সবুজ পতাকা ও স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা একটি সমৃদ্ধ জেলা। এই জেলার মানুষ শিক্ষিত, কর্মঠ ও আত্মপ্রত্যায়ী। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা জেলা খুব শিগগিরই দেশের অন্যতম উন্নত জেলা হবে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলার যেমন অসামান্য অবদান ছিল, তেমনি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এ জেলার উল্লেখযোগ্য অবদান আছে এবং থাকবে। এছাড়াও ভাষণে বেশ কিছু ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক পত্মী আম্মাতুন ফেরদৌস শিখা, স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম. সাইফুল্লাহসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল হাসান, নজরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র জীবিত বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার মেজর (অবঃ) সাইদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ আলী, সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী, কামরুজ্জামান সেলিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা, সাংবাদিক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ:
চুয়াডাঙ্গায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৫ উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছিল ভিন্নতা। মঞ্চে আলাদা করে কোনো চেয়ার ছিল না। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম খান ও পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা সংবর্ধিত অতিথি তথা বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করেন।
এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র জীবিত বীর প্রতীকপ্রাপ্ত সুবেদার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) খোন্দকার সাইদুর রহমান, স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গার জেলা কমিটির মুখ্য সংগঠক সজিবুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, সদর উপজেলা প্রশাসন, সদর উপজেলার সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সী আবু সাঈফ। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দিনে দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা কমে আসছে। সামনে বছর হয়ত অনেকের সাথে দেখা হবে না। আমি সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি। শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল:
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৫ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে পবিত্র কুরআন খতম, ‘স্বাধীনতার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক একেএম শাহীন কবির। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বদরগঞ্জ বাকি বিল্লাহ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. রুহুল আমিন।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘২৬ মার্চ আমাদের কাছে শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি। এই দিন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কোনো সহজে অর্জিত সম্পদ নয়। এটি আসে ত্যাগের মাধ্যমে, আসে অগণিত মানুষের রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে। আমাদের এই স্বাধীনতা শুধুমাত্র একটি পতাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের গর্ব, আমাদের অধিকার এবং আমাদের দায়িত্বে প্রতীক।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কর্মসূচি:
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপিসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৮টায় জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে শহিদ হাসান চত্বরে শহিদবেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, সফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হেদায়েত হোসেন আসলাম, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীন এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা আবেছউদ্দিনসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠানে বক্তারা স্বাধীনতা সংগ্রামে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি:
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় বেগনগর কিন্ডারগার্টেন স্কুলে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমির রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং অর্থ সম্পাদক কামাল উদ্দিন। এসময় জেলা কর্মপরিষদের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রউফ, মাওলানা লুকমান হুসাইন, জিয়াউল হক, আলতাফ হুসাইন, নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, দারুস সালাম, মাসুম বিল্লাহ, মাহফুজুর রহমান, কাইমুদ্দিন হীরক, মাওলানা মহি উদ্দিন, ইসলাইল হোসেন ও হাফিজুর রহমান। এছাড়া যুব জামায়াতের জেলা সভাপতি নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও গতকাল বিকেল চারটায় জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের কিরণগাছী গ্রামের উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থদের স্বাবলম্বী করতে ৬টি সেলাই মেশিন ও ২টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর থানার আমির মাওলানা বিলাল হোসাইন, সদর থানার সেক্রেটারি মো. গোলাম রসুল, সদর অফিস সম্পাদক মো. আশির উদ্দীন, শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন আমির মাওলানা আশাদুল হক, কুতুবপুর ইউনিয়ন আমির মাওলানা খবির উদ্দীন, মো. আবু উবাইদা, মো. মামুন হাওলাদার, মো. মাসুম বিল্লাহ হাওলাদারসহ অনেকে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বজলুর রহমান।
সরোজগঞ্জ:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল সরোজগঞ্জে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দিবসটি উদ্যাপিত হয়। এ উপলক্ষে সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মহান স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকবর আলীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, স্কুলের শিক্ষক শফিউর রহমান, নূরুল ইসলাম, করিম, শিক্ষিকা রিনা পারভীন, শেফালী খাতুনসহ সকল ছাত্র-ছাত্রী। অপর দিকে, সরোজগঞ্জ তেঁতুল শেখ কলেজ, ছাদেমান নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও সরোজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। পরে সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টায় শহিদ মুক্তিযোদ্ধা মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মেহেদী ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ধুনা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার বসু, ওসি মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহিদ, শিক্ষা কর্মকর্তা আলাউদ্দিন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হকসহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এছাড়াও আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, ওজোপাডিকো, এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, আলমডাঙ্গা থানা, সরকারি স্কুল, পৌরসভা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শহিদ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মঞ্চে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ মেহেদী ইসলাম। উপজেলা ইনস্ট্রাক্টর জামাল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার বসু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন, ওসি মাসুদুর রহমানসহ অনেকে।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কুদ্দুস, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম, শমসের মল্লিক, ডা. লিয়াকত আলী, ডা. আব্দুল কাদের, বীরাঙ্গনা মোমেনা খাতুন, সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস.এম. মাহবুবুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুরা জান্নাত, আইসিটি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে সকাল ৮টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহিদ জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান শেষে শহিদ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরে দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
অপর দিকে, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রভাষক ড. মহবুব আলম। শুরুতে কুরআন তিলাওয়াত করেন প্রভাষক জামালউদ্দিন এবং গীতা পাঠ করেন প্রভাষক পলি রানি সিনহা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মহিতুর রহমান। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মোনয়েম (সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) এবং সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমান।
হাটবোয়ালিয়া:
আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাতের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ধুনা, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাসির উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোয়েব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউল হুদা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিবুল হুদা তুহিন, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক সাংবাদিক মুর্শিদ কলিন, বাজার কমিটির সভাপতি এনামুল হক শিলু, সাধারণ সম্পাদক জান মোহাম্মদ, সহসভাপতি আহাদ আলী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সেলিম রেজাসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অপর দিকে, আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেলালুজ্জামান, আইসিটি কর্মকর্তা দিপু, ইউপি সদস্য রিপন মাহমুদ, মতিউর রহমান, নাজমুল হোসাইন, মহিলা ইউপি সদস্য মরিয়ম খাতুনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৫ উদ্যাপিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটির সূচনা হয় প্রভাতেই ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে। এরপর সকাল সাড়ে ৬টায় নাটুদাহ আটকোবর স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শহিদদের প্রতিকৃতিতে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা তানজির আহমেদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির, দর্শনা থানার ওসি শহিদ তিতুমীর, বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনের দামুড়হুদা উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব রাসেদ হাসান।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর দামুড়হুদা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, শরীরচর্চা প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে অডিটরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবির, দর্শনা থানার ওসি শহিদ তিতুমীরসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ।
দর্শনা:
দর্শনায় চরম অবহেলায় স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিজয় স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ। তবে কোনো রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা পেশাজীবী সংগঠনের তেমন কোনো কর্মসূচি ছিল না। দর্শনা পৌরসভা এবারের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিকে চরম অবহেলা করেছে। ইতোপূর্বে দর্শনা পৌরসভা বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের ডেকে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। এছাড়া শহরে মাইকিং করে কর্মসূচি প্রচার করা হয়। পূর্বের বছরগুলোর মতো শহরে পৌরসভার পক্ষ থেকে জাতীয় ও নানা বর্ণের পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক কে এইচ তাসফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি তো এত কিছু জানি না। স্বল্প খরচে অনুষ্ঠান পালন করতে সে আলোকে এভাবে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে পৌরসভায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে।’
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ‘রমজান মাস হওয়ায় সংক্ষিপ্ত আকারে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে স্বাধীনতা দিবস কীভাবে পালিত হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না।’ এর ফলে দর্শনা শহরে কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ দোকানপাট, বিএনপি কার্যালয় ও শহরের অন্যান্য স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। তবে কিছু সংগঠন সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করেছে। পৌর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পক্ষে পৌর সমন্বয়ক এনামুল হক শাহ মুকুল ও ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ব্যানারসহ মিছিল নিয়ে ১২টা ১ মিনিটে আনন্দ বাজার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর ৫৫ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয়।
এছাড়া দর্শনা সরকারি কলেজ, দর্শনা পৌরসভা, দর্শনা কেরু ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান, দর্শনা থানা বিএনপির অঙ্গসংগঠন, দর্শনা কেরু শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন, জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল, দর্শনা মৌচাক, কেরু উচ্চ বিদ্যালয়, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, চিনিকল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দর্শনা পৌর বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো আনন্দ বাজার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
এদিকে, দর্শনা সরকারি কলেজের উদ্যোগে সকালে রোভার ও বিএনসিসির উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সকাল ১০টায় কলেজের কলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্বাধীনতা দিবস ও ২৫শে মার্চের গণহত্যার স্মৃতিচারণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মফিজুল ইসলাম। শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক ওবাইদুর রহমান এবং গীতা পাঠ করেন দর্শন বিভাগের প্রভাষক মুক্তা কর্মকার।
প্রধান অতিথি ছিলেন দর্শনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সত্য ইতিহাস কেউ চাপা দিয়ে রাখতে পারবে না। দুঃখজনকভাবে আমাদের নতুন প্রজন্ম আজ ইতিহাস জানার আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা-এসব সভ্যতার চালিকা শক্তি। সত্য ইতিহাস একদিন না একদিন জেগে উঠবেই।’ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজ আবুল হাসনাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুল ইসলাম, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিহাজ উদ্দিন, দর্শনা সরকারি কলেজ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য সচিব পলাশ আহম্মেদ ও কলেজ ছাত্রশিবিরের মো. হামজা ফরাজি প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রভাষক নজরুল ইসলাম।
জীবননগর:
জামায়াতে ইসলামী জীবননগর উপজেলা শাখার আয়োজনে গতকাল বিকেল চারটায় মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, পৌর আমির মাওলানা ফিরোজ হোসেন প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির হাফেজ বেলাল হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পৌর যুব বিভাগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার।
একই দিনে জীবননগর বিএনপির উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় বিএনপির জীবননগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাজাহান কবির, সহসভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু, জীবননগর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাজাহান আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফি উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন ময়েন, যুবদল নেতা আজমত আলী, আনোয়ার হোসেন, ছাত্রদল নেতা শ্রাবণসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
আন্দুলবাড়ীয়া:
সারা দেশের ন্যায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আজিম খান, সিনিয়র সহসভাপতি খন্দকার নাসির উদ্দীন সোহাগ, সুপার ফাইভ নেতা রফু উদ্দিন, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইদুর রহমান বাবু, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী সমসের আলী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোল্লা বিপুল হোসেন দরবেশ, সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তার, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সেলিম উদ্দীন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তৌফিক আহমেদ পল্লব খান, সাধারণ সম্পাদক রহমতুল্লাহ, বিএনপি নেতা শেখ আব্দুল মমিনসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। অপর দিকে, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ, আন্দুলবাড়ীয়া কলেজ, আশরাফিয়া আলিম মাদরাসা, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃ থকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
উথলী:
‘আমি বাংলার বুকে মুক্ত বিহঙ্গে উড়ে বেড়াই স্বাধীনতার উল্লাসে’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে উথলী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন করা হয়। স্বাধীন এই ভূখণ্ডের জন্য যাদের আত্মত্যাগ, সেই সকল শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানায় শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। গতকাল সকাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পতাকা উত্তোলন, র‌্যালি ও আলোচনা সভা। উথলী ডিগ্রি কলেজ, উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসা, সিংনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেনেরহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উথলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৃগমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একতারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিংনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। রমজানের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি থাকলেও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান শিক্ষক, সুপার, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
ঝিনাইদহ:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহে মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করেছে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার রাষ্ট্রের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান। পরে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি সম্মান জানায়। এদিকে, দিবসটি উদ্যাপনে গতকাল শহরের পায়রা চত্বর থেকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেরণা একাত্তর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এম মজিদ, সহসভাপতি ও জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

একই সময় শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাব। সকালে প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্যদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও একুশে টিভির জেলা প্রতিনিধি এম রায়হান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কালবেলার ব্যুরো প্রধান মাহমুদ হাসান টিপু, নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাবেক সভাপতি এম সাইফুল মাবুদ, বাংলাভিশন টিভির জেলা প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, এশিয়ান টিভি ও দেশরূপান্তরের জেলা প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের সহসম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, আরটিভির জেলা প্রতিনিধি ও টেলিভিশন মিডিয়ার সভাপতি শিপলু জামান, সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তর টিভির রাজিব হাসান-সহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শহিদদের স্মরণে টিআইবি-র সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ঝিনাইদহের আয়োজনে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সনাক সভাপতি এম সাইফুল মাবুদ, সনাক সদস্য মো. আবু রাশেদ, ইয়েস দলনেতা মাজহারুল ইসলাম, শাহীন আলম, টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর হুমায়ূন কবীর ও নুরুল ইসলাম পাসি-সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। এছাড়া, দিনব্যাপী র‌্যালি ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়।

অন্যদিকে, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাব। গতকাল সকালে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্যদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ বীরদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও একুশে টিভির জেলা প্রতিনিধি এম রায়হান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কালবেলার ব্যুরো প্রধান মাহমুদ হাসান টিপু, নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাবেক সভাপতি এম সাইফুল মাবুদ, বাংলাভিশন টিভির জেলা প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, এশিয়ান টিভি ও দেশরূপান্তরের জেলা প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের সহসম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, আরটিভির জেলা প্রতিনিধি ও টেলিভিশন মিডিয়ার সভাপতি শিপলু জামান, সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তর টিভির রাজিব হাসান-সহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।
এছাড়াও, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জেলাবাসী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের জেলা প্রতিনিধি আসিফ ইকবাল কাজল এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিনের আমিনুল ইসলাম লিটন। শুভেচ্ছা বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। এই দিবস আমাদের গৌরবের, আমাদের চেতনার। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাকে বুকে ধারণ করে সুস্থধারার সাংবাদিকতাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

মেহেরপুর:
মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকাল ৯টায় মেহেরপুর স্টেডিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ জাতীয় সংগীতের সাথে তাল মিলিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মাকসুদা খানম।
এরপর আনসার ভিডিপি, জেল পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করে। জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ শেষে বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। কুচকাওয়াজ প্রতিযোগিতায় ক গ্রুপে মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম, সরকারি কলেজ বিএনসিসি দ্বিতীয় এবং মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও বি এম কলেজ তৃতীয় স্থান অর্জন করে। খ গ্রুপে জিনিয়াস ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রথম, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলদে পাখি দ্বিতীয় এবং উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান অর্জন করে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. একেএম আবু সাঈদ, মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নজরুল কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদিম হোসেন শামীম, সাজেদুল ইসলাম, আবির হোসেন, তানজিনা শারমিন দৃষ্টি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলী, জেলা ক্রীড়া অফিসার আরিফ আহমেদ, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান, টিটিসির অধ্যক্ষ আরিফ হোসেন তালুকদার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক সিরাজুম মুনির, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রিয়াজ মাহমুদ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোফাজ্জল প্রমুখ।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির শ্রদ্ধাঞ্জলি:
মেহেরপুর জেলা বিএনপি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে। সকাল ১০টায় মেহেরপুর সরকারি কলেজ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনে আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যারা অতীতে জনগণের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, তাদের কি করে বিশ্বাস করবেন?’ সকাল ৭টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও দলের প্রয়াত নেতা-কর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিম শিশুদের জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মেহেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশন:
মেহেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। উপ-পরিচালক এ জে এম সিরাজুম মুনীর-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তরিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফিল্ড সুপারভাইজার মো. তাওহিদুল ইসলাম ও সুপারভাইজার আমানুল্লাহ। কোরআন তিলাওয়াত করেন মেহেরপুর চাঁদবিল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আব্দুল বারী। আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা, স্কুলের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

মুজিবনগর:
মুজিবনগর উপজেলায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের সূচনা হয়। সকালেই মুজিবনগর কমপ্লেক্স স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ মণ্ডল, মুজিবনগর থানার ওসি মিজানুর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. আসাদুজ্জামান, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, মুজিবনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, মুজিবনগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ট্যুরিস্ট পুলিশ মেহেরপুর জোন, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি, পল্লী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৮টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ মণ্ডল ও থানার ওসি মিজানুর রহমান জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির প্রতীক পায়রা ওড়ানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। কুচকাওয়াজ শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

আরো ১১ বোয়িং বিমান কিনছে বাংলাদেশ