- প্রতি বৃহস্পতিবার সরোজগঞ্জে এক নারীর কাছে যান মনির
- আছে ব্যক্তিগত দেহরক্ষী, বাস্তবায়ন করেন মনিরের অন্যায় কাজ
- আছে বিলাতি মদ পানের লাইসেন্স, বারে উড়ান লাখ টাকা
- সংখ্যালঘু শিক্ষকের থেকে জোর করেই নিয়েছেন দোকানঘর
আলাদিনের চেরাগ পাওয়া মনিরুজ্জামান মনিরের শখ বেপরোয়া। অবৈধ আয়ে বিলাসী জীবন। প্রত্যেক বৃহস্পতিবার যান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জে এক নারীর সান্নিধ্যে। সে নিয়ে সেখানেও আছে নানা সমালোচনা। মদ পানের আছে লাইসেন্স। মনিরের বারে যাওয়া আসা নিয়মিত ব্যাপার। অন্যের বউকে নিয়ে ভারত ভ্রমণও মনিরের জন্য বেশ মজার। তার চারিত্রিক অস্থিরতায় ভেঙ্গেছে বেশ কয়েকটি নারীর সুখের সংসার।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ‘নিয়মিত মদপানে অভ্যস্ত মনির। তাই মদ পানের লাইসেন্সও করেছেন তিনি। ঢাকার কয়েকটি বারে তার নিয়মিত ওঠাবসা। ইতোপূর্বে একটি বারে মদ পানের সময় ঝামেলাতেও জড়িয়েছিলেন মনিরুজ্জামান মনির। ফিরিস্তির শেষ নেই ‘গুটলে’ মনিরের। সাইজ তার যাইহোক, নিজেকে প্রেমময় পুরুষই মনে করেন মনির। ভালোবাসা কখন কার প্রতি জাগে, মনির নিজেই জানে না। একাধিক নারীর সাথে তার সম্পর্কের দুর্নাম এলাকায় এলাকায় ছড়িয়ে। যেখানে যান, সেখানেই তৈরি করেন নতুন বান্ধবী।’
বিবাহিতদের সংসার ভাঙ্গতেও বেশ অভ্যস্ত মনির। ভ্যানচালকের স্ত্রীকে নিয়ে মনিরের ভারত ভ্রমণের আলোচনা তুঙ্গে। যে ভ্যানচালকের স্ত্রীকে নিয়ে মনিরুজ্জামান মনির ভারতে ছিলেন ৫-৬ দিন, তার সংসারটিও ভেঙ্গেছে। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি মুসলিম পাড়ার ওই ভ্যানচালক বলেন, ‘মনির আমার বউকে ইন্ডিয়ায় নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে ৫-৬ দিন অবস্থান করে। বিষয়টি আমি জেনে ফেলি। বাড়ি ফিরে আসার পর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে আমার স্ত্রী বলে তোমার সংসার করব না। মনিরকে আমি ভাইয়ের আসন দিয়ে বসালাম। ছোট ভাইয়ের বউ নিয়ে মনির ফুর্তি করলো ভারতে। তার রুচি এতই খারাপ ভ্যানওয়ালার বউটা নিয়ে চলে গেল। টাকা-পয়সা হয়েছে বলে যা মনে করছে, তাই করে যাচ্ছে। আমার জীবনটাই নষ্ট করে দিয়েছে।’
অনুসন্ধান বলছে, সপ্তাহে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার রাতে মনির সময় কাটাতে যান সরোজগঞ্জে জেসমিন নামে এক নারীর বাড়িতে। দামি দামি গাড়ি নিয়ে মনিরের যাওয়া-আসা সেখানেও নানা সমালোচনা তৈরি করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা দেখি মনির বড় বড় দামি দামি গাড়ি নিয়ে প্রায় রাতে আসেন জেসমিনের বাড়িতে। এটা আমাদের এলাকায় চরম বাজে প্রভাব ফেলছে। সামাজিকতা থাকে না। এলাকাবাসী মনিরের প্রভাবের ভয়ে কিছু বলতে পারে না। শুনেছি, জেসমিন নামের ওই নারীকে বাড়ি করে দিচ্ছেন মনির। এখন তাদের অবৈধ সম্পর্ক নাকি তারা বিবাহিত, তা কেউ জানেন না।’
জেসমিন নামের ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি। আবার মনির অবসর সময় কাটাতে গড়েছেন বাগান বাড়ি। এই বাড়িতে আসর বসে মদের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই বাড়িতে মাঝে মাঝে রাতে গান-বাজনার আওয়াজও শোনা যায়। আবার বাগান বাড়িতে মাঝে কয়েকজন নারীকেও আসতে দেখেছেন এলাকাবাসী।
মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার এলাকায় একজন সংখ্যালঘু শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি দোকান ঘর নিয়েছেন মনির। সেখানে আরেক সহযোগীকে দিয়ে ব্যবসার জন্য অর্থ বিনিয়োগও করেছেন তিনি। এছাড়াও মনিরের আছে ব্যক্তিগত দেহরক্ষী। দামুড়হুদা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের ইমরান নামের এক যুবক তার প্রধান সমন্বয়ক ও দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ অর্থের বিনিময়ে মনিরের নির্দেশে ইমরান ন্যায়-অন্যায় কাজগুলো খুব সহজে বাস্তবায়ন করেন। মনির স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক, স্ত্রীর বোন, স্ত্রীর বোনের মেয়েসহ নিজের ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নামে স্থাবর সম্পদ গড়েছেন চতুর মনির। নিজের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাশাপাশি আইনের হাত থেকে বাঁচতে আত্মীয় স্বজনদের নামেও কিনেছেন বহু টাকা মূল্যের সম্পদ। এসব নানা অভিযোগের বিষয়ে জানতে মনিরুজ্জামান মনিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রুঢ়ভাবে বলেন, ‘আপনাদের যা ইচ্ছা লিখে দেন।’
সমীকরণ প্রতিবেদন