অবসরে যাচ্ছেন তরুণ ফুটবলার হ্যাজি
- আপলোড তারিখঃ
০৬-১০-২০১৭
ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবলে নজির দেখিয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার ফুটবলে জনপ্রিয় নাম বিপুল হাসান হ্যাজি। ২০০০ সালের দিকে জেলা ফুটবল একাদশ অনুর্ধ-১৬’র জার্সিতে অভিষেক হয় তার। হঠাৎ কাউকে বুঝতে দেয়ার আগেই আজ শুক্রবার জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে শেষ চমক দেখিয়ে অবসরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ১৭ বছর মাঠ দাফিয়ে বেড়ানো ৩৩ বছর বয়সী এই নামকরা ফুটবলার।
২০০০ সালে অভিষেক হলেও চুয়াডাঙ্গা জেলা ফুটবল দলের সঙ্গে তার পথচলাটা শুরু হয় ২০০২ সালে। বয়সভিত্তিক দল থেকে ধাপে ধাপে জায়গা করে জেলা দলের শীর্ষ স্থানে। জেলার হয়ে খেলেছেন শতাধিক ম্যাচ; গোল শূণ্য ম্যাচের নজির না থাকলেও নির্দিষ্ট সংখ্যাটা বলতে পারেননি তিনি। এতেই তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিংবদন্তির মৌখিক খেতাব ছিনিয়ে নিয়েছেন।
সময়ের সমীকরণের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে হ্যাজি জানিয়েছেন, অনেক চিন্তা ভাবনার পর অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তরুণ এ ফুটবলার বলেন, ‘জেলার হয়ে খেলা আমার কাছে সবসময়ই বিশেষ কিছু। আমি যতবারই দলে ডাক পেয়েছি ততোবারই খুশি হয়েছি। জেলা দলের জার্সি গায়ে চাপানো অনেক সম্মানের ব্যাপার। কিন্তু আমি মনে করি এখন সময় এসেছে সরে দাঁড়িয়ে কিছু করার। এ সুযোগ হয়তো আর পাওয়া যাবে না। তাই জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টটিই আমি আমার ক্রান্তিকাল হিসেবে বেছে নিয়েছি। শেষ বারের মত ভক্তানুরাগী ও শুভাকাঙ্খীদের সামনে নিজের সেরাটা কাজে লাগিয়ে দলের জন্য মঙ্গলজনক কিছু করে নিয়মিত ফুটবলকে বিদায় জানাতে চাই।’
এক সময়ের মাঠ কাপানো ফুটবলার, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তরুণ কিংবদন্তি বিপুল হাসান হ্যাজি চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের মৃত ইছাহাক মন্ডলের বড় ছেলে। মা মোছা. বেগম। মাধ্যমিক পাশ করেছেন একাডেমি স্কুল থেকে এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাশ করেছেন পৌর ডিগ্রি কলেজ থেকে। এ সময়ই বয়স ভিত্তিক বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ও লীগ’র মাধ্যমে ফুটবলে আগমন হয় তার। জীবনের সবচেয়ে বড় খেলায় অংশ নেন জেলার মাটিতে শেরে বাংলা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে। ওই ম্যাচে দলের হয়ে দু’টি জয়সূচক গোল করেন হ্যাজী। এরপর দীর্ঘ ৭ বছর ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব ও দেশের স্বনামধন্য একাধিক দলের সাথে খেলার সুযোগ হয় তার।
আক্রমণ ভাগের এ তারকা ফুটবলার আরো জানান, ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলার ফুটবল বেশ আলোকিত ছিল। সে সময় নিয়মিত টুর্নামেন্ট ও লীগ চালু থাকায় একে অপরের সাথে সমন্বয়টা ছিল বেশ ভালো। দেশে এখন বয়স ভিত্তিক খেলা/লীগ অনেকাংশে কমে যাওয়ায় প্রতিভাবান যুব ফুটবলার ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নতুন মুখ উঠে আসার সুযোগ খুবই কম। ফলে ক্রমেই কমে যাচ্ছে ফুটবলের প্রতি তরুণ ও যুবকদের আগ্রহ। তবে জেলা প্রশাসকের এ আয়োজন আগামী প্রজন্মকে ফুটবল সম্পর্কে ভালো ধারণা দেবে। তাই বিদায় বেলায় সফলতা রেখে যেতে চান তিনি।
অবসর ভাবনা সম্পর্কে হ্যাজী বলেন, ‘এ টুর্নামেন্টের পর আমি জেলা দল থেকে অবসরে যাচ্ছি। এরপর একটি চাকরী করবো। পাশাপাশি ফুটবল ফেডারেশনের এনএসসি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একজন ভালো ফুটবল প্রশিক্ষক হতে চাই।’
কমেন্ট বক্স