গ্রাহকদের সাথে প্রতরণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
- আপলোড তারিখঃ
২৯-০৯-২০১৭
ইং
জনতা ব্যাংক হাসাদাহ শাখার কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও
জীবননগর অফিস: জীবননগরের হাসাদাহ শাখার জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎসহ গ্রাহক হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জীবননগর প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জনতা ব্যাংক হাসাদাহ শাখার ৫৩০০২২৭৫ জেবিডিএস একাউন্টের গ্রাহক জসিম উদ্দিন আহম্মেদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে হাসাদাহ জনতা ব্যাংক শাখায় মাসিক ৫হাজার টাকার ১০বছর মেয়াদী একটি (জেবিডিএস ৫৩০০২২৭৫ একাউন্ট) ডিপোজিট করি। সর্বশেষ কিস্তির টাকা ২০/৮/২০১৭ তারিখে ব্যাংকে জমা দিই। তাতে ব্যাংকের কর্মকর্তার সীল ও স্বাক্ষর আছে। গত জুলাই মাসে জানতে পারি যে, হাসাদহ শাখার জনতা ব্যাংকে একটি বড় ধরনের দূনীতি হয়েছে। হাসাদাহ জনতা ব্যাংক শাখার ম্যানেজার, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্লিনার মিলে ব্যাংকের ১৩ জন গ্রাহকের একাউন্ট থেকে এবং বিদ্যুৎ বিল, টেলিফোন বিল সব মিলে ২০ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। ইতোমধ্যে আমার একাউন্টে ৩টি কিস্তি জমা হয়েছে ফলস্ (নকল) সীল এবং জাল স্বাক্ষরে। এটি জানতে পেরে জনতা ব্যাংকের বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সুধী বৃন্দ মিলে একটি সালিশ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উক্ত টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করবে মর্মে প্রতিশ্রুতি দেয়।
কিন্তু গত ২০/৯/২০১৭ তারিখে আমার বাড়ির কর্মচারী সুমনের মাধ্যমে টাকা পাঠালে ব্যাংকের ম্যানেজার আমাকে ফোন দিয়ে বলে আপনার একাউন্টটি ক্লোজ হয়ে গিয়েছে। আমার একাউন্ট ক্লোজ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরপর তিনটি কিস্তি বাকি হয়েছে, বিধায় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী একাউন্টটি বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংকে জমা দেয়া সমস্ত রশিদ এবং রশিদে ম্যানেজার ইসরাফিল হোসেন ও আ. সামাদের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানালে, তিনি কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলেন। পরে কাগজপত্র নিয়ে তাকে দেখালে তিনি বলেন, এই সীল, বিদ্যুত বিলের সীল ও স্বাক্ষর সবই জাল।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা যদি জাল সীল আর জাল স্বাক্ষর করে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে, তাহলে এতে সাধারণ গ্রাহকরা কেন হয়রানির শিকার হবে। তাছাড়া ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের কারনে গ্রাহকরা কেনই বা নিজেদের অর্থ খেসারত দেবে। আমি ব্যাংকের নিয়মনুযায়ী সময়মত ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছি। ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী যদি ডুপ্লিকেট সীল, জাল স্বাক্ষর করে টাকা আত্মসাত করে, সে দায় গ্রাহক নেবে না। তাই ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি, আমার টাকা অচিরেই ব্যাংকে তাদের নিজ দায়িত্বে জমা দিয়ে আমার একাউন্টটি রানিং করতে হবে। তা না হলে আমরা যারা জনতা ব্যাংক হাসাদহ শাখার গ্রাহকরা আছি, তারা সকলে একত্রিত হয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।
কমেন্ট বক্স