২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিএনপির চুয়াডাঙ্গা জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্মেলন ঘিরে গতকাল বুধবার জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, পথসভা, শোডাউনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছেন এবং সম্মেলনকে সফল করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলন সফল করতে গতকাল সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের শহীদ হাসান চত্বরের মুক্তমঞ্চ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহীদ আবুল কাশেম সড়ক এবং পৌরসভা মোড় ঘুরে আবার শহীদ হাসান চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইমুম আহমেদ ইকবাল, যুবদল নেতা রিকন শেখ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহবুবুর রহমান মাহবুব, পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাজেদুল আলম মেহেদী প্রমুখ। এছাড়াও মিচিলে ছাত্রদলের শত শত নেতা-কর্মী অংশ নেন।

এদিকে, দীর্ঘ ১৪ বছর পর চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যা দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। এর আগে ২০১০ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবুর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। যিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতির পদ নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. শরীফুজ্জামান শরীফ ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিলিমা বিশ্বাস মিলির পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. সফিকুল ইসলাম পিটু, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির নেতা মোহা. খালিদ মাহমুদ, জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক মো. মোমিনুর রহমান এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মীর্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, আন্দোলন সংগ্রাম, মামলা, হামলা, গ্রেপ্তারের কারণে নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন করতে পারেনি জেলা বিএনপি। তবে খানিকটা দেরিতে হলেও এবার বড় আয়োজনে সম্মেলন করতে যাচ্ছে। যা চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির ইতিহাসে কোনো খোলা ময়দানে এটাই প্রথম এত বড় সম্মেলন।

এদিকে, বিএনপির চুয়াডাঙ্গা জেলা সম্মেলন সফল করতে সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারে যুবদল ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় সরোজগঞ্জ বাজারের যাত্রী ছাউনির সামনে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আর মুকুল। সভায় বক্তব্য দেন সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপ্টন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুল ইসলাম, শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দীন রুবেল, থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমান আশিক, যুবদল নেতা আমির হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে, বিএনপির এই সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে দর্শনা থানা বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় দর্শনা পৌর অডিটরিয়াম হলরুমে এর আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত। সভায় সম্মেলনের ব্যানার, পোস্টার, টুপি ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। নেতা-কর্মীদের তাদের নিজ নিজ এলাকায় পোস্টার লাগানোর এবং ব্যানার টানানোর নির্দেশনা দেন সভাপতি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী, সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল জোয়ার্দ্দার, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফি উদ্দীন, কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ, নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফরজ আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, সন্ধ্যায় দর্শনা পৌর বিএনপির উদ্যোগে একটি মোটরসাইকেল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শোডাউনটি দর্শনা পুরাতন বাজার থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে ফিরে শেষ হয়। শোডাউনে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বুলেট, যুগ্ম আহ্বায়ক নাহারুল ইসলাম মাস্টার, যুবদল নেতা সোলাইমান বাদশা, আমজাদ আলী, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের নির্বাহী সদস্য সুলতান মিয়া, সাইফুল ইসলাম শিপন, মিতুল মিয়া, সবুজ, পারভেজ, সজল, বাবর আলীসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

অন্যদিকে, বিএনপির চুয়াডাঙ্গা জেলা সম্মেলন উপলক্ষে দামুড়হুদা থানা বিএনপির উদ্যোগেও একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় থানা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে বাসস্ট্যান্ড প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে ফিরে আসে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির এবং সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু। এসময় তারা বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা সম্মেলন করতে যাচ্ছি, যা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শক্তিশালী নেতৃত্বের সৃষ্টি করবে।’ এসময় উপস্থিত ছিলেন থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মণ্টু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম, সদর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান মিল্টন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল রহমান আরিফ, ছাত্রদল নেতা আফজালুল রহমান সবুজ, সদস্যসচিব এমডিকে সুলতান, যুবদল নেতা শওকত, জাহিদ হাসান লাভলু, ইমতিয়াজ, রানাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমীকরণ প্রতিবেদন