ছোট ভাইয়ের প্রতারণার জালে বড় ভাইসহ তিন বোন
- আপলোড তারিখঃ
২৯-০৩-২০২৩
ইং
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষীকুণ্ডু গ্রামে ভুয়া কোম্পানি করার কথা বলে ভাই ও বোনের কাছ থেকে ২১৩ শতক জমি মশিউল আজম খাঁন হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাইয়ের এমন প্রতারণায় সর্বশান্ত পরিবারগুলো। অভিযোগ রয়েছে, এখন জমিতে গেলে মারধর, হুমকি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে ভাই ও বোনদের।
জানা গেছে, কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষীকুণ্ডু গ্রামে এগ্রো ফার্ম তৈরির কথা বলে ‘বাংলার জমিন এগ্রো ফার্ম লিমিটেডের’ চেয়ারম্যান পরিচয় দেন লক্ষীকুণ্ডু গ্রামের বিশারত আলী খার ছেলে মশিউল আজম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকার শাহাদাত হোসেন বাবলু ও কুষ্টিয়ার সরোয়ার হোসেন। মশিউল আজম কোম্পানি স্থাপনের কথা বলে ২০১৩ সালে তিন ভাই ওলিয়ার রহমান খাঁন, খায়রুল ইসলাম খাঁন এবং তিন বোন মোছাম্মত ফাতেমা খাতুন, মোছাম্মত হালিমা খাতুন ও মোছাম্মত আফরোজা খাতুনের কাছ থেকে কুশোকুড়ির মাঠে ২১৩ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। জমি রেজিস্ট্রির পর টাকা না দিয়ে দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকেন। কিছুদিন পর ৯ কোটি টাকার তিনটি চেক তিন বোনকে দেন। ওই চেক ব্যাংকে নিয়ে টাকা উঠাতে গিয়ে দেখেন অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। পরে তারা কোম্পানির নামে আদালতে ২৭ কোটি টাকার মামলা করেন। তবে ২০১৫ সালে কোম্পানির ডিএমপি সরোয়ার হোসেন বাদী হয়ে উল্টো তিন বোনের নামে চেক চুরি মামলা করেন ঢাকার পল্টন থানায়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পরে জমি ফেরত পেতে আদালতে মামলা করেন জমিদাতারা। সেই থেকে চলছে পাল্টাপাল্টি মামলা। এর মধ্যে হঠাৎ জমিদাতা ও কোম্পানির এমডি মশিউল আজম খাঁন সব জমি নিজের বলে দাবি করছেন। জমিদাতার দখলে থাকা জমিতে ১৪৪ ধারা জারি ও দফায় দফায় পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ওলিয়ার রহমান খাঁন বলেন, ‘২০১৩ সালে প্রতারণার মাধ্যমে এতোগুলো জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়ে একটি টাকাও দিল না। এখন উল্টো আমাদের নামে চেক চুরির মামলা করেছে। আমরাও জমি ফেরত পেতে মামলা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাঁচতে চাই। জমি ফেরত চাই।’
জানতে মশিউল আজম খাঁন সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে রাগান্বিত হয়ে খারাপ কথাবার্তা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি সেনাবাহিনীর ঠিকাদারি করি। চুটকে-পাটকে সাংবাদিকদের আমি পরোয়া করি না। কোনো নিউজকে আমি ভয় পাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা অভিযোগ দিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে পারলে আপনারা কিছু টাকা হাতিয়ে নেন। কারণ এখন পুলিশ ও সাংবাদিক টাকা দিয়ে কেনা যায়।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, মশিউল আজম খাঁনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের ঝামেলা আছে। কোম্পানি স্থাপনের কথা বলে সে তার আপন ভাই-বোনদের পথে বসিয়েছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, এলাকায় মশিউল আজম চিটার-বাটপার হিসেবে পরিচিত। সারাদেশেই তার প্রতারণার জাল রয়েছে।
কমেন্ট বক্স