রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গায় গৃহহীন পরিবারের নতুন ঘর নির্মাণের উদ্বোধন

  • আপলোড তারিখঃ ১৫-১২-২০২১ ইং
আলমডাঙ্গায় গৃহহীন পরিবারের নতুন ঘর নির্মাণের উদ্বোধন

হিন্দু তিন পরিবারের জন্য জমি দান করে সম্প্রীতির অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আ.জলিল মোল্লা

  এম এ মামুন: দেশে ও দেশের বাইরে মানুষ যখন সাম্প্রদায়িকতার বিষে নীল হচ্ছে এবং জাতিগত দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়িয়ে রক্ত গঙ্গা তৈরি করছে, ঠিক সেই সময় আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইথনপুর গ্রামের মরহুম তারা চাঁদ মোল্লার ছোট সন্তান সমাজসেবক দানশীল ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কৃষক জলিল মোল্লা তাঁর প্রতিবেশী ও সহায় সম্বলহীন অসহায় এবং হতদরিদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনটি পরিবারকে জমি দান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুদানের ঘর স্থাপনের সুযোগ করে দিয়ে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উক্ত জমি দানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার তাঁর প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আব্দুল জলিল মোল্লা হিন্দু সম্প্রদায় পরিবারকে জমি দান করে বুঝিয়ে দিয়েছেনে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উচ্চতার দেশ। গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জমি দান ও ঘর নির্মাণের শুভ উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন। একই অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও জলিল মোল্লার এই জমি দান এ জেলার মানুষের মাঝে উদাহরণ হয়ে থাকবে মন্তব্য ও প্রসংশা করেন। বক্তারা বলেন, গ্রামের আর পাঁচজনের মতো তিনিও সামাজিক মানুষ। তবে, অন্যদের থেকে একটু ভিন্ন। ১৯৭১ সালে দেশে যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন এই দানশীল ব্যক্তি জলিল মোল্লা গোকুলখালি স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। যুদ্ধের দামামায় পড়াশোনা করতে না পেরে যুদ্ধ পরবর্তীতে তিনি নেমে পড়েন কৃষি কাজে। বাবার অবর্তমানে তিনি ভিটা বাড়িসহ ১৬ বিঘা জমির মালিক হন। সমাজের সকল ক্ষেত্রে আ.জলিল মোল্লার রয়েছে সমাদরের স্থান। ভালো কোনো কাজে তিনি থাকেন সবার আগে। জীবদ্দশায় মানুষকে ভালোবেসে উপকার করে শান্তি পান, তাই কখোনো কখোনো কারো সাহায্যে এগিয়ে গেলে পিছপা হননা। পরোপকারী এই মানুষটির অতি কাছের প্রতিবেশী হতদরিদ্র ভূমিহীন হিন্দু সম্প্রদায়ের দাস শ্রেণির সন্তোষ কুমার দাস, লালন কুমার দাস ও অকুমার দাস দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আ.জলিল মোল্লার জমিতেই টিনের ছাপড়া করে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তারা তাদের অসহায়ত্ব ও মাথা গোঁজার একটা ঠাইয়ের কথা জলিল মোল্লাকে জানালে তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের তিনটি পরিবারের নামে ৭ শতক জমি খোশকবালায় রেজিস্ট্রি দান করে দেন। তাদের এই দান সম্পত্তির ওপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের তিনটি ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের দপ্তর। দানশীল আ.জলিল মোল্লা শুধু হিন্দু পরিবারকেই জমি দান করেননি, বাড়ির কাজের ছেলে আ.জব্বারের বিবাহসহ ১৬ লাখ টাকা খরচ করে তিন কাঠা জমির ওপর তৈরি করে দিয়েছেন তিন কামরার পাকা বাড়ি। তাঁর নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন ৩ বিঘা মাঠের ধানী জমিও। এছাড়াও কাজের ছেলেটাকে নিজের সন্তানের মতো তাঁর স্ত্রী-সন্তানও তার বাড়িতে বড় হচ্ছে এবং কাজের ছেলের বড় মেয়েটাকে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে নিজ বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহও দিয়ে দিয়েছেন এই জলিল মোল্লা। জমিদান উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আলমডাঙ্গার চিৎলা ইউনিয়নের রুইথনপুর পূর্বপাড়ায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন ‘ক’ শ্রেণির পরিবারের জন্য ৩য় পর্যায়ের গৃহ (দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা) ৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের নতুন ঘর নির্মাণের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে ও আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের বাস্তবায়নে এ ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন শেষে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. রনি আলম নুরের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, একটি ক্ষুধা দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের সহযোগী হিসাবে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। পরিশ্রম করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জলিল মোল্লা একজন মুসলমান হলেও দাস পরিবারের মাঝে স্বেচ্ছায় ভূমিহীনদের বাড়ি নির্মাণের জন্য জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা জলিল মোল্লাকে সাধুবাদ জানাই। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন,আব্দুল জলিল মোল্লা হিন্দু সম্প্রদায় পরিবারকে জমি দান কর প্রমাণ করে দিয়েছেন যে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সুযোগ নেই। জমিদাতা জলিল মোল্লা বলেন, ‘আমার জমিতে দাস পরিবার ৩০ বছর ধরে বসবাস করছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমি তিনটি দাস পরিবারে ৬ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি। এতে আমি খুব আনন্দিত।’ এদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইথনপুর গ্রামের অসহায় দরিদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা জমি ও প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে যেমন খুশি এবং তারা বহু দিন পর মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই পেয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দানশীল আব্দুল জলিলের দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শারমিন আক্তার, আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানা নাহিদ ও চিৎলা ইউনিয়নের নবানির্বাচিত চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, নজরুল ইসলাম, হাউস আলী, আবু তালেব, রবিউল ইসলাম, আজকার আলী, আবেদ আলী, আব্দুর রহিম, হাবিবুর রহমান, আসদ আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী অফিসার মিজানুর রহমান।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত