স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’-এর ১৫ জন কৃতী খেলোয়াড়কে বাফুফের সংবর্ধনা
- আপলোড তারিখঃ
০৯-১২-২০২১
ইং
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিলো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার সন্তান কৃতী ফুটবলার আব্দুল মোমেন জোয়ার্দ্দারসহ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ১৫ সদস্যকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এছাড়া ক্রেস্ট দিয়েও এই কৃতী খেলোযাড়দের সম্মান জানায় বাফুফে। চুয়াডাঙ্গার সন্তান সাবেক কৃতী ফুটবলার আব্দুল মোমেন জোয়ার্দ্দার ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই এপার-ওপার অর্থাৎ দুই বাংলায় ভালো ফুটবল খেলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ফুটবলার আব্দুল মোমেন জোয়ার্দ্দারের সেসময় কলকাতার ক্লাব ফুটবলে বেশ নাম-ডাক ছিলো। জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনের ভাই এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দারের চাচা ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিকের পিতা ফুটবলার আব্দুল মোমেন জোয়ার্দ্দার চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ দেশের ফুটবলে অনেক অবদান রেখেছেন। আর পার করেছেন ফুটবলের স্বর্ণযুগ। যার কারণে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর পক্ষ থেকে ১৫ কৃতী ফুটবলারকে সম্মাননা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রস্তাবক সাইদুর রহমান প্যাটেল তৎকালীন সময়ে দল গঠনের দীর্ঘ স্মৃতিচারণও করেন।
সেসময়ের স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিণ্টু বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে সবার সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছি। মোমেন জোয়ার্দ্দারের সঙ্গে সেসময় সখ্যতা আমার একটু বেশিই ছিলো। আজ বাফুফে আমাদের সম্মানিত করলো, খুব ভালো লাগছে।’
সেসময়ের স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার তান্না বলেন, ‘ওই সময় আমরা সবাই নিরাপত্তার স্বার্থে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছিলাম। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে আমাদের নাম স্থান পেয়েছে। তাই আমরা সবাই খুশি।’ পরে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতিকেও স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন তান্না। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের দেখে আমার মনে পড়ে যায় ওই সময়ের কথা। আজকের রোহিঙ্গাদের মতোই তখন ভারতে ছিলাম আমরা।’
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে এ মাসেই সংবর্ধনা দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ডায়াসের পেছনে সারিবদ্ধভাবে চেয়ারে বসেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ১৫ জন সদস্য। এরা হলেন- মোহাম্মদ কায়কোবাদ, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, সুভাষ সাহা, ফজলে হোসাইন খোকন, আমিনুল ইসলাম সুরুজ, আব্দুল মোমেন জোয়ার্দ্দার, আবদুস সাত্তার, মুজিবুর রহমান, সাইদুর রহমান প্যাটেল, মোজাম্মেল হক, বীরেন শিং বিরু, আবুল কাশেম, বদিউজ্জামান ও মইন সিনহা। আর সামনের সারিতে প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বসেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার তানভীর মাজহার তান্না, বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু ও সহকারী অধিনায়ক প্রতাপ শংকর হাজরা। তবে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেও এনায়েত আসেননি বাফুফের সংবর্ধনা সভায়। যদিও তার নামে দু’টি ক্রেস্ট দেখা গেছে।
কমেন্ট বক্স