শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে কাশিপুর জমিদার বাড়ি

  • আপলোড তারিখঃ ০২-১২-২০২১ ইং
সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে কাশিপুর জমিদার বাড়ি
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কালজয়ী ‘মহেশ’ গল্পের বিখ্যাত দুই চরিত্র হতদরিদ্র কৃষক ‘গফুর’ ও ‘তার মেয়ে আমিনা’ এখানেই সৃষ্টি হয়েছিল। যেখানে অত্যাচারিত জমিদারের নির্যাতনে মুসিলম পরিবারের কথা উঠে এসেছে। গল্পে জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই কাশিপুর জমিদার বাড়িতে তৎকালিন সময়ে বসবাস করতেন জমিদার বিনয় কুমার চট্টোপাধ্যায় ও মিনায় কুমার চট্টোপাধ্যায়। এই দুইজন জমিদার ছিলেন কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মামা। সে কারণেই এ বাড়িতে যাতায়াত ছিল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্মৃতিবিজড়িত কাশিপুর জমিদার বাড়িটি সংস্কারের অভাবে চরম অবহেলায় পড়ে আছে। লাল দেয়াল ধূসর হয়ে গেছে। দেখে বোঝা যায়, এখানে আভিজাত্য ছিল এক দিন। লোকমুখে শোনা যায়, এখানকার জমিদার বিনয় কুমার চট্টোপাধ্যায় খুবই অত্যাচারী ছিলেন। শরৎচন্দ্র এসব দেখে মর্মাহত হয়েছিলেন। তাই মামাকে কেন্দ্র করেই মহেশ গল্প লেখা শুরু করেন। কাশিপুর জমিদার বাড়িটি ১২৬৮ বঙ্গাব্দ এবং ১৮৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত বিভাগের সময় এই বাড়িতে বর্তমান বসবাসরত হাবিল এবং কাবিল দুই ভায়ের পূর্বপুরুষদের সাথে বিনিময় করা হয়। জমিদারের পরিবার ভারতে চলে যান। ‘জমিদার বিনয় কুমার চট্টোপাধ্যায় ও মিনায় কুমার চট্টোপাধ্যায়। ভারতের ১২০০ বিঘা জমির বিনিময়ে এটি ছেড়ে দেন’ বলে এলাকাবাসী জানান। বাড়িতে জমিদারের ব্যবহৃত খাট, সোফা, টেবিলসহ কিছু জিনিসপত্র রয়েছে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি বিজড়িত কামিপুর জমিদার বাড়িটি সংস্কারের অভাবে চরম অবহেলায় পড়ে আছে। বিনিময় সূত্রে অন্য পরিবার ব্যবহার করছে জমি, বাড়ি বা সম্পদ। সেরকমই এক সদস্য হাবিল পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি বললেন, বাড়ির  বেশিরভাগ অংশ পরিত্যক্ত। আশপাশে নতুন স্থাপনা তৈরি হয়েছে। অবহেলা আর অনাদরে পড়ে আছে জমিদার বাড়ি। সরকারিভাবেও সংস্কারের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কাশিপুর জমিদার বাড়িটি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবি সাহিত্যিকরা আসে। তবে এটা যদি সংস্কার না করা হয়, তাহলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।’ যশোর এম এম কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তুহিনুজ্জামান বলেন, ‘প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা মহেশ গল্প পড়ার পর আমার খুব আগ্রহ জেগে ছিল জীবননগর উপজেলার কাশিপুর জমিদার বাড়ি দেখার জন্য। আমি বাড়িটি দেখতে এসেছি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে জীবননগর উপজেলার একটি ছোট্ট গ্রামের মধ্যে অবস্থিত জমিদার বাড়িটি। তবে এই জমিদার বাড়িটি সংস্কারের অভাবে চরম অবহেলায় পড়ে আছে। এটা যদি সরকারিভাবে সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা হয়, তাহলে আগামী প্রজন্ম এই জমিদার এবং লেখক সম্পর্কে আরও কিছু জানতে পারবে।’ জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি বিজড়িত কাশিপুর জমিদার বাড়িটি আমি পরিদর্শন করেছি। ইতিহাস দেখলে দেখা যায় এখানকার জমিদার বিনয় কুমার চট্টোপাধ্যায় ও মিনায় কুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আপন মামা, তারা ছিলেন খুবই অত্যাচারী। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাধারণ প্রজাদের ওপর এসব নির্যাতন দেখে মর্মাহত হয়েছিলেন। তাই মামাকে কেন্দ্র করেই মহেশ গল্প লেখেন। তবে এই বাড়িটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যেই প্রত্বতত্ত্ব এর সমস্থ তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এটি খুব দ্রুত সংস্কারের কাজ করা হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় ‘নিমগ্ন পাঠাগারে’ সেমিনার অনুষ্ঠিত