তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেহেরপুরের ৬টি ও ঝিনাইদহে ১৬টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরের ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে তিনটিতে নৌকা ও তিনটি স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।
গাংনী উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে রাইপুর ইউনিয়নে গোলাম সাকলায়েন ছেপু (নৌকা), ষোলটাকা ইউনিয়নে আনোয়ার পাশা (আ.লীগের বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র) ও কাজিপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহা. আলম হুসাইন বিজয়ী হয়েছেন। অপর দিকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ধানখোলা ইউনিয়নে আব্দুর রাজ্জাক (নৌকা) বিজয়ী হয়েছেন।
রাইপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম সাকলায়েন ছেপু ১ হাজার ১১৪ ভোটে জয়ী হয়েছে। নৌকা প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ৫ হাজার ২৫৯। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রব (আনারস) পেয়েছেন ৪ হাজার ১৪৫ ভোট। বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান সাবদার হোসেন কালু (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯৮ ভোট।
ষোলটাকা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা আনোয়ার পাশা (আনারস) ১৯৯ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৩০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলবার হোসেন (নৌকা) ৪ হাজার ৭৩১ ভোট পেয়েছেন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৪ হাজার ৬১০ ভোট। জাতীয় প্রার্থী জান মহাম্মদ মিণ্টু (লাঙ্গল) ১ হাজার ২৫০ ভোট পেয়েছেন।
কাজিপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহা. আলম হুসাইন ৪৫৭ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। চশমা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ১১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা আব্দুল আলিম (টেবিলফ্যান) পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৫৪ ভোট। নৌকা প্রতীক নিয়ে রেজাউল হক পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৪০ ভোট। গোলাম সরওয়ার (দুটি পাতা) ৩ হাজার ১১৮ ভোট, আব্দুর রশিদ (আনারস) ২ হাজার ৪০৫ ভোট এবং আব্বাস আলী (মোটরসাইকেল) ৫৪২ ভোট পেয়েছেন।
মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম রেজা বিজয়ী হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫৭৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইদ্রিস আলী (নৌকা) ১০ হাজার ৭২৮ ভোট। বুড়িপোতা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে শাহজামাল বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৩১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল হক (ঘোড়া) ১১ হাজার ৪১৩ ভোট পেয়েছেন।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে সুন্দুরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ওহিদুজ্জামান ওদু (বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), জামাল ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মোদাচ্ছের হোসেন মণ্ডল, কোলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আলা-উদ্দিন আল আজাদ, নিয়ামতপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থী রাজু আহম্মেদ রনি লষ্কর, সিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ওরফে ঋতু হিজড়া, রায়গ্রাম ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আলী হোসেন অপু (বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), মালিয়াট ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আজিজুল ইসলাম খাঁ, বারোবাজার ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ (বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আয়ুব হোসেন ও রাখালগাছি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মহিদুল ইসলাম মণ্টু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এলাকায় থেকে যেভাবে রাত-দিন নৌকার পক্ষে ভোট করেছেন, তা না হলে নৌকার প্রার্থীদের আরো পরাজয়ের সম্মুখীন হতে হতো। ভোটের দিনও কালো গাড়িতে প্রেস স্টিকার লাগিয়ে দেখভাল করেছেন তিনি। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি ঘটেছে। ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে একটিতে নৌকা জয়লাভ করেছে। বাকি চারটিতে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে।
বেরসকারি ফলাফলে দেখা গেছে, কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান কাবিল উদ্দীনকে হারিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল জলিল বিশ^াস, কুশনা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাহাবুজ্জামান সবুজ, বলুহর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম, সাফদারপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান ও এলাঙ্গী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মিজানুর রহমান খান। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।