`মুজিববর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি` এই প্রতিপাদ্যে উদযাপিত হলো কমিউনিটি পুলিশিং ডে ২০২১। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ শনিবার জনগণকে সাথে নিয়ে এদিবসটি পালন করে থাকে বাংলাদেশ পুলিশ। এ উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরে ও ঝিনাইদহে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২১ পালিত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা:
বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যই আমাদের গর্বিত সন্তান বলে অবিহিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার পর কালেক্টরেট স্কুলমাঠে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২১ এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন, পুলিশ সম্বপর্কে বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষের আলাদা আলাদা ধারণা আছ। পুলিশ আমার আপনারই সন্তান। এছাড়া বর্তমান পুলিশ সুপার সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের চুয়াডাঙ্গার এসপি সাহেবের বাড়ি চুয়াডাঙ্গাতে না হলেও তিনি চুয়াডাঙ্গাকে নিজের বাড়ি মনে করেন। বর্তমানে ১৮ কোটি মানুষের জন্য ১২ লাখ পুলিশ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সামান্য শক্তি নিয়েও সাফল্যের সথে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। হর্লি আর্টিজান থেকে শুরু করে জামাত-শিবিরসহ বিভিন্ন দেশবিরোধী চক্রান্তকে অসামান্য কৃতিত্বের সাথে মোকাবেলা করে আসছে পুলিশ। সকল অন্যায়-অনিয়ম শুধু পুলিশের চোখেই ধরা পড়বে বলে বসে থাকলে হবে না। আমাদেরও সহযোগিতা করতে হবে। আমরা যদি সহযোগিতা না করি তাহলে সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, এক সময় আমরা পাকিস্থানের অধিনে ছিলাম। যেদিন যুদ্ধ শুরু হয় সেদিনও চুয়াডাঙ্গার এসডিও ছিলেন পশ্চিম পাকিস্থানের সিন্ধু এলাকার লোক। সে সময় কুষ্টিয়ার এসপি ছিলো পাঞ্জাবের লোক। আজকে আমাদের ছেলেরা আমাদের মেয়েরা ডিসি হচ্ছে, এসপি হচ্ছে, এডিশনাল এসপি হচ্ছে, মেয়েরা চাকরি করছে। বাংলাদেশের প্রতিটা ডিপার্টমেন্টে মেয়েরা সুনামের সাথে চাকরি করছে। এরা আমাদেরই সন্তান। দেশ স্বাধীন হয়েছিলো বলেই আজকে আমাদের ছেলেরাই আমাদের মেয়েরাই সকল জায়গায় প্রতিনিধিত্ব করছে। দেশ যদি স্বাধীন না হতো, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সেদিন যদি বাঙালী জাতি আত্মত্যাগ না করতো তাহলে এই দেশ আজও পরাধীনারত শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতো। আজ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, মুক্ত হয়েছি। স্বাধীনতা মানে এই নয় যে, বেআইনি কাজ করবো। আপনাদের নিজস্ব একটি বিবেক আছে সেই বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। আমাদের সকলকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আপনারা যদি না পারেন সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে।
আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবী বলছে, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল, ঠিক তখনই একটা গোষ্ঠি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা দেশ চাইনি। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি পাকিস্থানীরা আমাদের বাড়ি চিনতো না। এদেশেরই পরাজিত শক্তিরা তখন আমাদের বাড়ি চিনিয়ে দিয়েছে। তারপরও আমরা চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করেছি। তবে ওই পরাজিত শক্তির কাছে আমরাও একবার পরাজিত হয়েছি। তাদের চক্রান্তের কাছে আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি। আজ বঙ্গবন্ধু নেই। তারই সুযোগ্য কন্যা শক্ত হাতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বানিয়েছেন। ওই পরাজিত শক্তি কি চাইবে? দেশ উন্নত হোক। আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত হয়ে চাকরি করুক। ওই পরাজিত শক্তিরাই বর্তমানে অসাম্প্রদায়িক এই দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। পদে পদে পুলিশকে সহযোগিতা করে ওই অপশক্তিদের প্রতিটা চক্রান্ত নিশ্চিহ্ন করতে হবে। এটিই হোক আজকের পুলিশিং ডে’র আশা আকাক্সক্ষা।
এর আগে `মুজিববর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি` স্লোগানে কমিউনিটি পুলিশিং ডে’র আলোচনা সভায় পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর। এসময় তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি লাল সবুজ পতাকা। পেয়েছি একটি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিলো খুদামুক্ত, দারিদ্র মুক্ত এবং ধর্ম নিরপেক্ষ একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ার। সে সময় বঙ্গবন্ধু তার সেই নীতি আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছিলেন। আর অল্প সময়ের মধ্যেই একটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলো। ঠিক তখনই তাকে স্বপরীবারে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে পড়েছিলো তা আপনারাই ভালো জানেন। একটা সময় আমরা যখন ঢাকাতে থাকতাম ব্যবসা বাণিজ্য করতাম। তখন চুয়াডাঙ্গার পরিচয় দিলে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার লোক আমাদেরকে তাচ্ছিল্য করে বলতো তোমাদের ওইখানে তো ইটের ভাটাই মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়। তোমরা ওইখানে থাকো কি করে। পরে ১৯৯৬ সালে যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ.লীগ ক্ষমতায় আসে তখনকার সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম ভাইয়ের সহায়তায় আমাদের এই অঞ্চলের সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার কারিগর হলেন আজকের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। সেই সন্ত্রাসী জনপদ আজকে কোথাই হারিয়ে গিয়েছে। সবই হয়েছে ছেলুন ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে।
আজকে পুলিশ বাহিনী। জনতাই পুলিশ এবং পুলিশই জনতা। এটা বঙ্গবন্ধুর ট্রপিক ছিলো। ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা আবার ক্ষমতায় এসে আমাদেরকে রুপকল্প ২০২১ বলেছে। তখন কিন্তু আমরা অনেকেই বিশ্বাস করতে পারিনি এটা কি করে সম্ভব। ডিজিটাল বাংলাদেশ, রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন করবো, স্যাটেলাইট পাঠাবো, ট্যানেল করবো, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র করবো, পদ্মা সেতু করবো। আমরা মেট্রোরেল করবো। চুয়াডাঙ্গাতে এত বড় বড় স্থাপনা করবো। যেগুলো অতিতে ছিলো না। একটা সময় রাস্তা ঘাট ছিলো না, স্কুল-কলেজের কোনো বিল্ডিং ছিলো না। এখন তার সবই হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য। এই উন্নয়নের সাথে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ব্যাপক ভুমিকা আছে। সেই সাথে পুলিশ বাহিনীকেও আধুনিকায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। বর্তমানে আইজিপি’র পদ মর্যাদাকে সিনিয়র সচিব করেছেন। অতিরিক্ত আইজিপিদের গ্রেড-১ করেছেন। এখন সাব ইন্সপেক্টররা দ্বিতীয় শে্িরণর পদ মর্যাদা কর্মকর্তা। আর ইন্সপেক্টররা প্রথম শ্রেণি। সবই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান।
তিনি আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি হলো নারী। সেই নারীকে ঘরে বন্দি করে রাখলে দেশের কোনো উন্নয়ন হবে না। আজ যেমন র্যালিতে নারী পুলিশ সদস্যরা আসছিলো ঠিক তেমনি প্রতিটা ক্ষেত্রে নারীদেরকে এগিয়ে নিতে হবে, তাহলেই দেশকে আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। করোনাকালীন সময়ে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ওই সংকটকালীন সময়ে বাবা আসেনি, ছেলে আসেনি, আপনজনেরা আসেনি। অ্যাপ্রোন গায়ে দিয়ে পুলিশই জনতার পাশে দাঁড়িয়েছিলো সাহস যুগিয়েছিলো আপনাদের ভয় নেই, পুলিশ আছে আপনার পাশে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমারা সোনার বাংলা গড়বো। সেই সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদের আইনশৃংখলা সুন্দর রেখে `মুজিববর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি` এই স্লোগানে আমরা এগিয়ে যেতে পারলেই সোনার বাংলা গড়তে পারবো।
কমিউনিটি পুলিশিং ডে’র আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৫ সালে রাজারবাগে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, তোমরা সরকারি কর্মচারী জনগণের দিকে তাকাও। কেউ তোমার বাবার মতো। কেউ তোমার ভাইয়ের মতো। কেউ তোমার বোনের মতো। কেউ তোমার ছেলের মতো। কেউ তোমার মেয়ের মতো। তোমরা তাদের সেবা করো। জনগণের সেবা করাই প্রতিটি সরকারি কর্মচারীর ধর্ম। জনগণকে সম্মান দেখিয়ে কথা বলো। সেই জনগণ হচ্ছেন আপনারা। এই এক বক্তব্যের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশসহ আমাদের সকল সংস্থায় উন্নয়নের কথা আছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কথা আছে। বঙ্গন্ধুর ডাকে আপনারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন বলেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। তার কারণেই আজ আমরা পুলিশের পোশাক পরি আপনাদের সামনে মাইকে জোর গলাই কথা বলি। এসব কিছুই তারই ফসল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আ.লীগের সকল নেতা কর্মীদের ডেকে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে বলেছেন। এর মধ্যেও কমিউনিটি পুলিশিং আছে।
তিনি আরও বলেন, এখনও আমার অফিসে আমতলায়, পেয়ারাতলায় মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে আমার সাথে কথা বলার জন্য। আমি গাড়ি থেকে নেমে তাদের ডেকে নিতাম। আমরা কর্মচারী। মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য এসেছি। ভয় পাবেন না। কমিউনিটি পুলিশিং কিছুই না। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন তাহলে এ জেলা থেকে সকল অপকর্ম দূর করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন, কমিউনিটি পুলিশিং ডে’র প্রধান পৃষ্ঠপোষক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক (ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক) সাজিয়া আফরিন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান (আহ্বায়ক, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটি), জেলা কমিউনিটি পুলিশিং-এর সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নির্বাহী সদস্য মুন্সি আলমগীর হান্নান, এছাড়াও অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুন্সি আবু সাইফ।
কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২১ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টার সময় প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে সদর থানা চত্ত্বরে অফিসার মেসে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে শহীদ হাসান চত্বরে মাথাভাঙ্গা ব্রীজের উপর বেলুন ফেস্টুন কবুতর অবমুক্তি শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয় র্যালিটি শহরের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে গিয়ে শেষ হয়। আলোচনা সভার মাঝে কমিউনিটি পুলিশিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বেশ কয়েকজনকে সম্মানোনা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ। পরে সকল অতিথিরা এক সাথে কেক কাটেন।
আলমডাঙ্গা:
`মুজিববর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি` এ স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় আলমডাঙ্গায় কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২১ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১ টার সময় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের আয়োজনে উপজেলা এরশাদ মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। প্রধানপৃষ্টপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি আলম নূর। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি পুলিশিং উপজেলা সমন্বয় কমিটির আহব্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, আলমযডাঙ্গা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কৃষিবীদ গোলাম সরোয়ার মিঠু, কমিউনিটি পুলিশিং উপজেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার, কমিউনিটি পুলিশিং পৌর সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক বিআরডিবি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মহিদ, বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন, প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামীম রেজার উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু, আবু সাঈদ পিন্টু, আমিরুল ইসলাম মন্টু, মাসুদ পারভেজ, তরিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সম্পাদকের মধ্যে জয়নাল আবেদীন, মোল্লা কামরুজ্জামান শামীম, সমীর কুমার দে, খন্দকার আব্দুল বাতেন, বিল্লাল গলি, খাসকররা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাফসির আহমেদ লাল মল্লিক, বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আলা উদ্দিনসহ কয়েকশ কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য বৃন্দ।
জীবননগর:
জীবননগরে কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটির আয়োজনে `মুজিব বর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি` এই স্লোগানে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২১ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার এক বণ্যার্ঢ র্যালী বের হয়। র্যালীটি জীবননগর উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু মো. লতিফ অমল, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সী নাসির উদ্দিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা।
উল্লেখ, সরকারি এই কর্মসূচীতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে দাওআত না দেওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জাহিদ বাবু বলেন, শুধু এই অনুষ্ঠানই নয়, অন্যান্য ব্যাপারেও সাংবাদিকদের তথ্য দিতে বর্তমান ওসি আব্দুল খালেক গড়িমসি করে আসছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘটনার অনেক পড়ে থানার ফেসবুক আইডিতে তথ্য প্রদান করে থাকেন।
দামুড়হুদা:
`মুজিব বর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্পীতি` এ স্লোগানে দামুড়হুদায় কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২১ পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০ টায় দামুড়হুদা মডেল থানার উদ্যোগে বণ্যার্ঢ র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আ.লীগের সদস্য ও কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কমিউনিটি পুলিশিং-এর সদস্য হাবিবুল্লাহ বাহার, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জুড়ানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কমিউনিটি পুলিশিং-এর সদস্য সোহরাব হোসেন, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ভ্ট্টু, নাটুদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিল্টন, হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন, দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (অপারেশন) মোল্লা সেলিম উদ্দিন, এস আই আব্দুর রহমান, জেলা পরিষদের সদস্য ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল কবির ইউসুফ, দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত নৌকার প্রাথী হযরত আলী, উপজলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দামুড়হুদা মডেল থানাার এসআই তৌহিদুর রহমান শেখ।
দর্শনা:
`মুজিব বর্ষের পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি` স্লোগানে দর্শনায় কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২১ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকাল ১০ টার দিকে দর্শনা থানা পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটির আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলী মুনছুর বাবু।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) এএইচএম লৎফুল কবীর, দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওয়াল হোসেন, পারকৃষ্ণপুর মাদনা ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মুনতাজ আলী, দর্শনা পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসলাম তোতা, এম এ ফয়সাল ও দর্শনা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ পারভেজ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দর্শনা থানার ইন্সেপেক্টর আপরেশন আবু সাঈদ।
মেহেরপুর:
`মুজিববর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি` এ স্লোগানে মেহেরপুরে কমিউনিটি পুলিশং ডে-২০২১ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেহেরপুর পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেড মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ সুপার মো. রাফিউল আলমের সভাপতিত্বে, মেহেরপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার ড.আল-মামুনুল আনছারী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, মেহেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল, জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা আশকার আলী, সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. ইব্রাহীম শাহিন, জেলা বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সভাপতি প্রফেসর হাসানুজ্জামান মালেক, মেহেরপুর জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. আবুল বাশার প্রমুখ।
ঝিনাইদহ:
`মুজিববর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি` এ স্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২১ উদযাপিত হয়েছে। জেলা পুলিশের আয়োজনে গতকাল শনিবার সকালে সদর থানা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সদর থানা চত্বরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির প্রধান সমন্বয়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা। আলোচনা সভায় বক্তারা সমাজ থেকে অন্যায়, অপরাধ দুর করতে কমিউনিটি পুলিশিং এর সহযোগিতা ও কমিটিকে সহায়তা করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকান্ডে অবদান রাখায় হরিণাকুন্ডু পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেনসহ ২ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।