ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহ শহরের উপ-শহরপাড়ার একটি সেফটি ট্যাংকি থেকে গতকাল শুক্রবার সকালে নিখোঁজের চার দিন পর মনোয়ারা খাতুন (৫০) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি একই এলাকার নতুন কোর্টপাড়ার আব্দুর রহিম মহুরীর স্ত্রী। গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ মনোয়ারা খাতুনকে হত্যার পর লাশ সেফটি ট্যাংকির মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ঘটনায় পারুল নামে সন্দেহভাজন এক মহিলাকে পুলিশ আটক করেছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি হরেন্দ্র নাথ সরকার জানান, গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এলাকাবাসির সংবাদের ভিত্তিতে উপশহর পাড়ার ইফতেখারুল আলমের বাড়ির সেফটি ট্যাংকি থেকে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে সহকারী পুলিশ সুপার ডাঃ কানিজ জাহান উপস্থিত ছিলেন। নিহতর স্বামী আব্দুর রহিম মহুরী জানান, গত মঙ্গলবার থেকে চার দিন ধরে তার স্ত্রী নিখোঁজ ছিল। এ ব্যাপারে তিনি সন্ধানের দাবীতে মাইকিংও করেন। স্বামী রহিমের অভিযোগ পাওয়ানা টাকা চাওয়ায় তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেশিরা জানান, বিভিন্ন এনজিও থেকে মনোয়ারা খাতুন নিজের নামে ঋন নিয়ে পাড়ার একাধিক মহিলাদের দেন। তাছাড়া ওই মহিলা সুদে কারবার করতো বলে অভিযোগ। এখন ওই সব মহিলারার আর কিস্তি বা ঋন কোনটাই পরিশোধ করছে না। এদিকে এনজিওর প্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত টাকার জন্য ধরনা দিচ্ছে। এ নিয়ে মনোয়ারা খাতুনের সাথে ঋন নেওয়া মহিলাদের প্রায় ঝগড়া বিবাদ হতো। গত মঙ্গলবার ঋনের টাকা আদায় করতে বের হন মনোয়ারা খাতুন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পুলিশের একটি সুত্র জানায়, ঘরের মধ্যে হত্যার পর লাশ টেনে হ্যচড়ে নিয়ে যাওয়ার আলামত পাওয়া গেছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন